শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষার চাপ, কোচিংয়ের চাপ, জিপিএ ৫ এর চাপ। এর মধ্যে কোনো আনন্দ নেই। তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ অত বেশি নেই। সৃজনশীল পড়ালেখার মধ্যে আমরা কতটা সৃজনশীলতা শেখাতে পারছি সেটা নিয়েও আমাদের ভাবতে হবে। তবে আমরা মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছি। নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের কাজও শেষের পথে।’

শনিবার এজুকেশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ইরাব) এর ম্যাগাজিন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে ‘কলম’ নামে এই ম্যাগাজিন প্রকাশ করে ইরাব।

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের জন্য ইরাবের এই সংকলন সহায়ক গ্রন্থ হবে বলে আমি মনে করি। সাংবাদিক হিসেবে ইরাব সদস্যদের যে উপলব্ধি, বিশ্লেষণ ও অভিজ্ঞতা তা তারা তুলে ধরেছেন। লেখাগুলো আমাদের সহযোগিতা করবে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষে এই প্রকাশনার জন্য আমি ইরাবকে ধন্যবাদ জানাই।

তিনি বলেন, আমরা এমপিও নীতিমালা যুগোপযোগী করেছি। এর ভিত্তিতে এ বছরই নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির কাজ শুরু হবে। শিক্ষা আইনের কাজ আমরা শেষ করেছি। এটা মন্ত্রী পরিষদে পাঠানো হচ্ছে। আশা করছি, শিগগিরই জাতীয় সংসদে তা অনুমোদিত হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই প্রশিক্ষণবিহীন কোনো শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে ঢুকবেন না। যদিও আমাদের এখনকার শিক্ষকরা চার বা পাঁচ বছর পাঠদান করার পর প্রশিক্ষণ নিতে আসছেন। কিন্তু ততদিনে সেই শিক্ষকের মাইন্ডসেট এমনভাবে তৈরি হয়ে যায় সে আর নতুন কিছু গ্রহণে আগ্রহী হন না।’

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জামা, জুতা ও ব্যাগ কেনার জন্য ইতিমধ্যে এক হাজার করে টাকা দেওয়া আমরা শুরু করেছি। করোনা মহামারির মধ্যেও আমার বিশ্বাস, আগামী বছরের প্রথম দিনেই আমরা নতুন বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে পারবো।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে গঠনমূলক সংবাদ পরিবেশন করছে ইরাবের সদস্যরা। তৃনমূলে সংবাদ পৌঁছে দিয়ে ইরাব আমাদের সহযাত্রী হিসেবে কাজ করছে।

সাবেক তত্ত্বাববধারক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষায় ঢালাও বাণিজ্যিকীকরণের লাগাম টেনে ধরতে হবে। করোনাকালীন শিক্ষার জন্য আমরা প্রণোদনা চাই। ভ্যাকসিনে শিক্ষকদের অগ্রাধিকার চাই। এ ছাড়া দ্রুত শিক্ষা আইন প্রণয়নেরও দাবি জানাচ্ছি।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, আমাদের মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষক ঘাটতি ছিল। ইতোমধ্যে সেটি পূরণ করার চেষ্টা করেছি। সরকারি স্কুলে দুই হাজারের বেশি শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। দীর্ঘদিন পর বেসরকারি স্কুল কলেজ পর্যায়ে ৩৮ হাজার শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান বলেন, করোনার মধ্যেও সম্প্রতি আমরা দুই হাজার ১৮১ জন শিক্ষক নিয়োগের আদেশ জারি করেছি। এ ছাড়া সাড়ে চার হাজার শিক্ষকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দ্রুতই প্রকাশ করা হবে। পাঠ্যক্রম এবং শিক্ষাক্রম পরিবর্তনে আমাদের কাজ চলমান রয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরও বিভিন্ন ধারার শিক্ষাব্যবস্থা চলমান রয়েছে। আমরা একটি সমন্বিত অসাম্প্রদায়িক শিক্ষাব্যবস্থা চাই। আমাদের এখনই সময় সামাজিক পরিবর্তন সাধনের এ সমস্ত কার্যক্রম হাতে নিতে হবে। করোনাকালীন সংকট নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপও দরকার।

স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে বিভিন্নভাবে শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে। এ ঝড়ে পড়া রোধে সবার অংশগ্রহণ জরুরি।

দৈনিক বাংলার নির্বাহী সম্পাদক শরিফুজ্জামান পিন্টু বলেন, করোনাকালীন পরিস্থিতির কারণে শিক্ষায় ঘাটতি তৈরি হয়েছে, ঝড়ে পড়ার হারও বাড়ছে। এক্ষেত্রে অবশ্যই শিক্ষায় বড় আকারের প্রণোদনা প্রয়োাজন রয়েছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে হবে।

সংগঠনের সভাপতি সাব্বির নেওয়াজের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শরীফুল আলম সুমনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি নিজামুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মীর মোহাম্মদ জসীম প্রমুখ।