চার দিনের রিমান্ড শেষে ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমণিকে আজ মঙ্গলবার আবার আদালতে তোলা হয়। পরীমণির সঙ্গে দেখা করতে তার নানা শামসুল হক গাজী এদিন এসেছিলেন আদালতে। কিন্তু নাতনি পরীমণির সঙ্গে তার দেখা হয়নি।
এদিকে শুনানির সময় আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়েন নায়িকা পরীমণি। মিনিট পাঁচেক তিনি কান্না করেন।
পরীমণির বিরুদ্ধে মাদক মাদক মামলা করেছে পুলিশ। এদিন ওই মামলায় শুনানি শেষে আদালত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় নানা শামসুল হককে দেখে চিৎকার করে কথা বলার চেষ্টা করেন পরীমণি। দূর থেকে 'নানা, নানা' বলে ডাকেন। পুলিশ সদস্যরা এর বেশি কথা বলার সুযোগ দেননি তাকে। পরীমণির এই মামলাকে কেন্দ্র করে আদালতে এদিন ছিল ব্যাপক ভীড়।
পরীমণির সঙ্গে দেখা করতে এদিন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে হাজির ছিলেন নানা শামসুল হক গাজী। পরীমণিকে আদালতে হাজির করা হলে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
পরীমণি সম্পর্কে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের বলেন, 'আমি ছাড়া ওর কেউ নাই। ওর সঙ্গে দেখা করতে এসেছি।' এ সময় কথা আটকে যায় তার মুখে।
পরীমণি খুব ছোটবেলায় মা হারান, একটু বড় হয়ে বাবাকে হারিয়ে বড় হন পিরোজপুরে তার নানা শামসুল হক গাজীর কাছে।
চিত্রনায়িকা পরীমণিকে আবারও দুইদিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে তাকে আরও পাঁচদিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শুনানি শেষে দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাস।
গত ৪ আগস্ট পরীমণির বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে র‌্যাব। এ সময় তার মামা আশরাফুল ইসলাম দীপুকেও আটক করা হয়। বাসা থেকে বিদেশি মাদকদ্রব্য জব্দ করার কথা জানায় র‌্যাব।
একইদিন পরীমণির ঘনিষ্ঠজন ও প্রযোজক নজরুল ইসলামের রাজের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে র‌্যাব। তাদের বিরুদ্ধে বনানী থানায় মামলা হয়। মামলা স্থানান্তর করা হয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৫ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির করে ডিবি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি তাদের চারদিনের রিমান্ড নেয়। আদালত থেকে তাদের নেওয়া হয় মিন্টোরোডে ডিবি কার্যালয়ে। পরদিন ওই মামলা তদন্তভার যায় সিআইডির কাছে। মামলার আসামি হিসেবে পরীমণি, রাজ, দীপু ও মৌকে ৬ আগস্ট মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।