মডেল, অভিনেত্রী ও তাদের সহযোগীদের বাসায় অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত ‎৬টি দামি গাড়ি জব্দ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এর মধ্যে পরীমণির টয়োটা হেরিয়ার, পিয়াসার ফেরারি ও বিএমডব্লিউ, প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের দু'টি হেরিয়ার, শরিফুল হাসান ওরফে মিশু হাসানের ফেরারি গাড়ি রয়েছে। জব্দ এসব গাড়ি কার নামে রয়েছে, কারা ব্যবহার করত বিআরটিএ'র মাধ্যমে তা যাচাই করে দেখছে সিআইডি।

এদিকে পরীমণি, পিয়াসা, মৌ, হেলেনা জাহাঙ্গীর, নজরুল ইসলাম রাজসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে আটটি মামলার তদন্ত করছে সিআইডি। পরীমণিসহ অন্য ছয়জনের বাসায় ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকের মামলা হলেও অন্যান্য অভিযোগও খতিয়ে দেখছে সিআইডি।

মঙ্গলবার সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান। তিনি বলেন, 'সামাজিক ও গণমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির নাম এসেছে। এ নিয়ে নানা বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। নিশ্চিত নয় এমন তথ্য ছড়ালে অনেকের সম্মাহানি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে। যদি আমরা কাউকে না ডাকি, তাহলে বুঝতে হবে তিনি ওই মামলায় রেলেভেন্ট কেউ না। পরীমণি-পিয়াসাদের মামলাগুলোর তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনেককে ডাকা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যাদের ডাকা হবে তাদের কোনো তালিকা হচ্ছে না। এ নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।'

মাহবুবর রহমান বলেন, 'আমরা মামলাগুলোর তদন্তের স্বার্থে অনেককেই ডেকেছি, সামনে হয়তো আরও অনেককে ডাকব। তবে এখনই কাউকে অভিযুক্ত বা দোষী করার সুযোগ নেই। পরীমনি-পিয়াসাদের সবার বিরুদ্ধে মাদক মামলার বাইরেও ব্ল্যাকমেইলিং ও প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে আমরা অনেককেই ডাকছি, কাউকে ডাকা হচ্ছে অভিযোগের ভিত্তিতে, আবার কাউকে ডাকা হচ্ছে সাক্ষী হিসেবে। অভিযোগের ব্যাপারে এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। তবে কিছু মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।' 

শরিফুল হাসান ওরফে মিশু হাসানের জব্দ করা ফেরারি গাড়ি

সিআইডির প্রধান বলেন, 'অভিনেত্রী ও কথিত মডেলদের কাছে যাতায়াতকারীদের কোনো তালিকা হচ্ছে না। আইন অনুযায়ী এমন তালিকা তৈরির সুযোগও নেই।' তিনি আরও বলেন, 'সম্প্রতি এ সংক্রান্ত অভিযানে ১৫টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে আটটির তদন্ত আমরা করছি। মামলার সব মিলিয়ে আসামি ১০ জন।'

পরীমনি-রাজকে নতুন করে রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, 'আরও প্রশ্নের উত্তর জানতে কয়েকজন আসামিকে ফের রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে। মামলাগুলোর দায়িত্ব পাওয়ার পর সিআইডি তাদের বাসায় আবারও তল্লাশি করে তিনটা জিপ, একটা ফেরারি কার, একটা বিএমডব্লিউ ও একটি মাজদাসহ ছয়টি গাড়ি জব্দ করে। গাড়িগুলো কার নামে রয়েছে, কে ব্যবহার করত তা জানতে বিআরটিএ থেকে কাগজ যাচাই করছি। গাড়িগুলো যথাযথভাবে আমদানি করা হয়েছে কি-না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।' 

তদন্তাধীন বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে কোনো খবর প্রকাশ না করতে সংবাদ মাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সিআইডি প্রধান বলেন, 'কারও বিদেশযাত্রায় এখন পর্যন্ত কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। যদি দরকার হয় তবে নিষেধাজ্ঞ দেওয়া হতে পারে। অবৈধ কোনো বিষয় পেলে সেটা কারা আনল, কীভাবে আনল, কে পয়সা দিল, সোর্স কোথায়- এসব তদন্তের আওতায় চলে আসছে। আসামিদের সম্পদ ও আয়ের উৎসও যাচাই করা হচ্ছে।'