পরীমণি-পিয়াসার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল- এমন অনেকে ভয়ে বাড়িছাড়া বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে এক অনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। 

ডিএমপি কমিশনার বলেন, 'পরীমনি ও পিয়াসাকে মাদকের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সিআইডি। তাতে অনেকের নাম বেরিয়ে আসার গুঞ্জন চলছে। অনেকই ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বাড়িতে থাকাই বন্ধ করে দিয়েছেন। আমাদের কাছে জানতে চাচ্ছেন- ভাই আমি কি বাড়িতে থাকব? বলেছি, কেন? বলছেন, আমাকে তো অমুক মিডিয়া থেকে ফোন করা হয়েছে, পরীমণি অথবা পিয়াসা আপনার নাম বলেছে।'

শফিকুল ইসলাম বলেন, 'কেউ যদি ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে থাকেন, তারা কেউ সামনে আসছেন না। মামলা করছেন না। সামাজিক মর্যাদার ভয়ে আসছেন না হয়ত। আর মামলা না করলে এক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই।'

ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, 'মনে করেন, আমি কোথাও অভিযান করে একজন প্রখ্যাত মডেল এবং সমাজের একজন উঁচু স্তরের মানুষকে আপত্তিকর অবস্থায় ধরলাম। আমি কী করতে পারি, আমি ২৯০ ধারায় একটি প্রসিকিউশন দিতে পারি, ১০০ টাকা জরিমানা। এর বাইরে কিছু করার নেই আইনে। না ধরতে পারলে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।'

পরীমণির মদের লাইসেন্স থাকার বিষয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, 'লাইসেন্স থাকলে লাইসেন্সের কতটুকু ক্যাপাসিটি, কতটি মদ নিতে পারে? এগুলো পরীক্ষা করে সে অনুযায়ী মামলায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।'

পরীমণি ও পুলিশ কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েনের কথিত সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, 'এটি আইনে অপরাধ নয়, চাকরিবিধিতে অপরাধ। একজন বিসিএস ক্যাডার অফিসার এই ধরনের অনৈতিক সম্পর্কে জড়াবে, এটি কখনই প্রত্যাশিত না। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

 ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে পরীণির করা মামলার তদন্তে সাকলায়েন জড়িত ছিলেন না বলেও সাংবাদিকদের জানান শফিকুল।