জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার চক্রান্ত মুক্তিযুদ্ধের আগেই শুরু হয়েছিল। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুকে হত্যার জন্য বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) দু'জন আততায়ীকে পাঠিয়েছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও এ চক্রান্ত অব্যাহত থাকে, যার ধারাবাহিকতায় ১৯৭২ সালের শুরুতেই তৎকালীন সেনাবাহিনীর মেজর সৈয়দ ফারুক রহমান ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে গিয়েছিলেন গোপনে। আলোচনা করেছিলেন, নিজেদের একটি ছোট্ট গ্রুপের জন্য অস্ত্র সংগ্রহের বিষয়ে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ প্রকাশিত দলিলে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এ ছাড়া মার্কিন সাংবাদিক লরেন্স লিফৎসুলজ, মার্কিন লেখক স্ট্যানলি উলপার্ট, ভারতীয় লেখক বিক্রমাদিত্য, ব্রিটিশ সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের লেখায় ও সাক্ষাৎকারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের দীর্ঘ অধ্যায়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরোক্ষ ভূমিকার প্রামাণিক চিত্র উঠে এসেছে।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সে সময়ের সরকার ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘ পরিসরে গবেষণা করেছেন অকাল প্রয়াত সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান। তার লেখা 'মার্কিন দলিলে মুজিব হত্যাকাণ্ড' গ্রন্থে এই নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডে মার্কিন অবস্থানের সুস্পষ্ট দালিলিক প্রমাণ সন্নিবেশিত রয়েছে। ঐতিহাসিক দলিলগুলো প্রমাণ করে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড দীর্ঘমেয়াদি দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের ফল। প্রখ্যাত ব্রিটিশ সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি সৈয়দ ফারুক রহমান সুস্পষ্টভাবেই জানিয়েছিলেন, তৎকালীন উপ-সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানের সঙ্গে এই হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। তবে বঙ্গবন্ধুর প্রত্যক্ষ ঘাতকদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হলেও নেপথ্যের নায়করা এখনও আইনের বিচারে অধরাই রয়েছেন।

ষড়যন্ত্রের শুরু উনসত্তর থেকেই: 'মার্কিন দলিলে মুজিব হত্যাকাণ্ড' গ্রন্থে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ প্রকাশিত অনেক দলিল সংযোজন ও বিশ্নেষণ করে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ প্রেক্ষাপট বর্ণনা করা হয়েছে। এই গ্রন্থের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় মার্কিন কনস্যুলেট থেকে ওয়াশিংটনে পাঠানো বার্তায় বলা হয়, ২৩ ডিসেম্বর ১৯৬৯, শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ডেপুটি চিফ  অব মিশন সিডনি সোবার এবং কনসাল ইনচার্জ সাক্ষাৎ করেন। এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ মুজিব তার বিরুদ্ধে হত্যা ষড়যন্ত্রের তথ্য দেন। মুজিব বলেন, ২০ ডিসেম্বর তিনি বিষয়টি সম্পর্কে প্রথম জানতে পারেন, কিন্তু তখন গুরুত্ব দিতে চাননি। কিন্তু ২২ ডিসেম্বরে তিনি এ বিষয়ে যাচাইকৃত সাক্ষ্য-প্রমাণ পেয়েছেন। তার মনে আর কোনো সন্দেহ নেই, যে তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে।

এই বার্তায় আরও বলা হয়, শেখ মুজিব বিশ্বাস করেন ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মধ্যকার পাঞ্জাবিদের একটি ক্ষুদ্র চক্র রয়েছে। পূর্ব পাকিস্তানের জন্য একটি বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনের ধারণা তারা মানতে পারছে না। দুই আততায়ীর মধ্যে একজন ইতোমধ্যেই পূর্ব পাকিস্তানে এসে পৌঁছেছেন। মুজিবের কাছে যখন জানতে চাওয়া হয়, বিষয়টি সামরিক আইন প্রশাসনকে জানানো হয়েছে কিনা, তখন তিনি কিছুটা দ্বিধান্বিত হন। তার কারণ হয়তো এটাই যে, এ বিষয়ে সামরিক আইন কর্তৃপক্ষকে জানানোর সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে।

এই বার্তার শেষে তৎকালীন ঢাকায় মার্কিন কনস্যুলেটের পলিটিক্যাল অফিসার এন্ড্রু আই কিলগোর নিজের মন্তব্যে লেখেন, মুজিবকে হত্যার ষড়যন্ত্র সত্য-মিথ্যা যাই হোক, মনে করিয়ে দেওয়ার পক্ষে এটা একটা সময়োপযোগী বিষয় যে, পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কল্পনাতীত রকম শূন্যের কোঠায়। আসন্ন অবাধ রাজনৈতিক কার্যক্রমকালে, বিশেষ করে শেখ মুজিবকে হাজার হাজার, এমনকি লাখো লোকও ঘিরে থাকবে। এ রকম ভিড়ের মধ্যে একজন আততায়ী তার জীবনপ্রদীপ নিভিয়ে দিতে পারে এবং পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য তার ফল হয়ে উঠতে পারে বিয়োগান্ত।

ষড়যন্ত্র অব্যাহত স্বাধীন দেশেও: স্বাধীন বাংলাদেশেও বঙ্গবন্ধুকে হত্যার দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার দলিল থেকেও এমন চিত্র উঠে এসেছে।

২০০৫ সালের ৩০ জুন সিআইএ'র প্রকাশিত দলিলে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের বিভিন্ন সময় মার্কিন দূতাবাসে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের যাতায়াতের কয়েকটি বর্ণনা রয়েছে। ঢাকার মার্কিন দূতাবাস কর্মকর্তা নিউবেরি কর্তৃক পাঠানো এক বার্তায় (ডকুমেন্ট নং-কনফেডেনশিয়াল, ঢাকা-৩১৫৬) বলা হয়, ১৯৭২ সালের শুরুতেই শেখ মুজিব সরকারের অগোচরে মেজর সৈয়দ ফারুক রহমান ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে গিয়েছিলেন অস্ত্র সংগ্রহের ব্যাপারে আলোচনা করতে। ১৯৭৩ সালের ১১ জুলাই আবারও মার্কিন দূতাবাসে যান আরেকজন মেজর। তিনি ফারুকের ভায়রা ভাই মেজর আবদুর রশিদ। তিনি তখন জানিয়েছিলেন, ব্রিগেডিয়ার জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটির পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীর জন্য অস্ত্র ক্রয় নিয়ে কথা বলতে তাকে পাঠানো হয়েছে।

এরপর সিক্রেট ঢাকা, ডকুমেন্ট নং-২১৫৮তে বলা হয়েছে, ১৯৭৪ সালের ১৩ মে সৈয়দ ফারুক রহমান 'উচ্চতম পর্যায়ের বাংলাদেশ সেনা কর্মকর্তার নির্দেশে শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার উৎখাতে' যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সহায়তা চেয়েছেন।

ভারতীয় লেখক বিক্রমাদিত্যের 'কনফিডেনশিয়াল ডায়েরি' গ্রন্থে যুক্তরাষ্ট্রের 'হাউস অব ফরেন অ্যাফেয়ার্সের' রিপোর্টের উদ্ৃব্দতি দিয়ে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের পর স্বাধীন বাংলাদেশকে ঘিরে নতুন মিশন শুরু হয় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিক্সন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিসিঞ্জারের, যার মূল লক্ষ্য ছিল সিআইএর মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিবুর রহমানকে সরিয়ে দিয়ে সদ্য স্বাধীন দেশকে গভীর রাজনৈতিক সংকটে ফেলা। এ জন্য তারা পাকিস্তান ফেরত পুলিশ, সেনাবাহিনীর সদস্য এবং সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে সখ্য বাড়াতে থাকেন। এ সময় পাকিস্তান ফেরত ১১৩ জন পুলিশ সদস্যকে নিয়ে গিয়ে আমেরিকার ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ একাডেমিতে স্পেশাল অপারেশন ফোর্সেস (ওপিএস) প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই ট্রেনিংপ্রাপ্তদের ৪০ জন বঙ্গবন্ধু হত্যার সময় বাংলাদেশের ইন্টেলিজেন্সে ছিলেন এবং তাদের প্রায় সবার সঙ্গেই সিআইএর সম্পর্ক ছিল। পরে তাদের সবাই জেনারেল জিয়াউর রহমান সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে যান।

বিক্রমাদিত্যের গ্রন্থে আরও বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু হত্যার সময় দুই সিআইএ এজেন্ট জর্জ গ্রিফিন এবং হ্যারল্ড স্যান্ডারস উপস্থিত ছিলেন ঢাকায়। তাদের মধ্যে গ্রিফিন ছিলেন তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের ডান হাত হিসেবে পরিচিত হ্যারল্ড সান্ডারসের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আর স্যান্ডারস ছিলেন ১৯৭১ সালে মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা কিসিঞ্জারের পরামর্শদাতা এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের একজন ডেপুটি। ১৯৭৫ সালে কিসিঞ্জার সেক্রেটারি অব স্টেট হওয়ার পর স্যান্ডারস প্রমোশন পেয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্টে তার সহকারী হন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সময় স্যান্ডারস ছিলেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ডিরেক্টর অব ইন্টেলিজেন্স। তার সঙ্গে তখন আরও কাজ করতেন জর্জ গ্রিফিন। যিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতার কনস্যুলেটে সিআইএর এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। কলকাতায় তার সঙ্গে তখন সখ্য গড়ে ওঠে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খন্দকার মোশতাকের।

বিক্রমাদিত্য ছদ্মনাম ধারী স্পাই থ্রিলার লেখক মূলত ১৯৭৫ ও ১৯৭৬ সালে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে কর্মরত ছিলেন বলে জানা যায়। তার 'কনফিডেনশিয়াল ডায়েরি' গ্রন্থে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের বিবরণ দিয়ে লেখা হয়েছে, ১৪ আগস্ট দিবাগত রাতে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত বোস্টার নিজের বাসায় ছিলেন না। আর ভোর ৪টায় দূতাবাসে নিজের অফিস কক্ষে গিয়েছিলেন ঢাকায় তৎকালীন সিআইএ মিশন প্রধান ফিলিপ চেরি। কাছাকাছি একটি ভবনে অবস্থান করছিলেন দুই আমলা মাহবুব আলম চাষী এবং তাহের উদ্দিন ঠাকুর। বত্রিশ নম্বরে যখন গোলাগুলি চলছিল, তখন মাহবুব আলম চাষী ও তাহের উদ্দিন ঠাকুর দ্রুত বাংলাদেশ বেতারে চলে যান। সেখানে তাদের সঙ্গে যোগ দেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ। আর সিআইএ প্রধান বার্তা পাঠান ওয়াশিংটনে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভয়েস অব আমেরিকা ভোর সাড়ে ৫টার বুলেটিনে বঙ্গবন্ধু হত্যার খবর প্রচার করে। অথচ বঙ্গবন্ধু সে সময় জীবিত ছিলেন! তখনকার প্রামাণিক দলিল অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু নিহত হন সকাল ৬টার কয়েক মিনিট আগে। এ থেকে এটা বোঝা যায়, ভোর সাড়ে ৪টায় মার্কিন দূতাবাসে আসা সিআইএ কর্মকর্তা ফিলিপ চেরি ৩২ নম্বরে গোলাগুলির শব্দ শুনেই বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের খবর আগাম ওয়াশিংটনে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন! পরে ফিলিপ চেরি ভারতের সাংবাদিক পরেশ সাহাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তিনি মুজিব হত্যার খবরটি যথাসম্ভব দ্রুততার সঙ্গে পাঠিয়েছিলেন। তিনি যখন খবর পাঠান, বত্রিশ নম্বরে এবং আশপাশে তখনও অভ্যুত্থান চলছিল। তার এ বক্তব্য প্রমাণ করে তিনি আগে থেকেই পুরো পরিকল্পনা সম্পর্কে খুব ভালোভাবে জানতেন।

ভুট্টো-কিসিঞ্জার এবং ঢাকায় একটি বিশেষ বৈঠক: মার্কিন লেখক স্ট্যানলি উলপার্ট তার বিখ্যাত গ্রন্থ 'জুলফিকার ভুট্টো অব পাকিস্তান :হিজ লাইফ অ্যান্ড টাইমস' গ্রন্থে লিখেছেন, ১৯৭৫ সালের জুনে পাকিস্তানের কাকুলে সামরিক একাডেমিতে দেওয়া বক্তব্যে ভুট্টো বলেছিলেন, 'এ অঞ্চলে শিগগিরই কিছু পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে।' স্ট্যানলি উলপার্ট আরও লিখেছেন, বাংলাদেশে কয়েকটি মুজিববিরোধী রাজনৈতিক দলকে ভুট্টো নিয়মিত আর্থিক সহায়তা দিতেন, যা ছিল তার ইচ্ছামাফিক পরিবর্তনের জন্য বিনিয়োগ।

একই সময় ওয়াশিংটনে হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশে সিআইএর মিশন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছিলেন। হেনরি কিসিঞ্জারের স্টাফ অ্যাসিস্ট্যান্ট রজার মরিস লিখেছেন, কিসিঞ্জার শেখ মুজিবকে ঘৃণা করতেন। বৈদেশিক শত্রুর তালিকায় শেখ মুজিবকে রেখেছিলেন তিনি। একাত্তরে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মকে তিনি নিজের পরাজয় হিসেবে দেখতেন। এ জন্য তিনি শুরু থেকেই বাংলাদেশবিরোধী দৃঢ় অবস্থান নেন।

মার্কিন সাংবাদিক লরেন্স লিফৎসুলজের 'দ্য আনফিনিশড রেভুলেশন' গ্রন্থে তখনকার উপ-সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ আগে ঢাকায় সিআইএ প্রধান ফিলিচ চেরির বাসভবনে সস্ত্রীক এক নৈশভোজে অংশ নেন। সেখানে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেওয়া আরও অনেকেই ছিলেন। সেখানে ফিলিচ চেরির সঙ্গে জিয়াউর রহমানের প্রায় এক ঘণ্টা একান্ত বৈঠক হয় পৃথকভাবে। লিফৎসুলজ লিখেছেন, ১৯৭৭ সালে ইউরোপে তাকে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি খন্দকার আবদুর রশীদ জানিয়েছিলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের আগে জিয়াউর রহমানই তাদের আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র সঙ্গে আছে, সেখান থেকে কোনো বাধা আসবে না। এ ব্যাপারে তিনি (জিয়াউর রহমান) নিশ্চিত।

ঘটনাপ্রবাহ বিশ্নেষণে দেখা যায়, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ওয়াশিংটন থেকে করাচি হয়ে ঢাকা পর্যন্ত শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট তৈরির জন্য। যে নেটওয়ার্কে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ভুট্টো থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধুর প্রত্যক্ষ খুনিরাসহ বঙ্গবন্ধু সরকারের মন্ত্রী খন্দকার মোশতাক, উপ-সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান, উচ্চপদস্থ আমলা মাহবুব আলম চাষী, তাহেরউদ্দিন ঠাকুর সবাই সম্পৃক্ত ছিলেন।