রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চন্দ্রিমা উদ্যান এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, মারধর এবং গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরমধ্যে ২৬ জনকে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। অপর আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার তাদের আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করলে ২৬ জনের মঞ্জুর করেন বিচারক।

এর আগে এ ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা হয়। এসব মামলার মধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, ক্ষতিসাধন ও হুমকির অপরাধে একটি মামলা করেছে। এ মামলায় আসামি হিসেবে আমান উল্লাহ আমান ও তাবিথ আউয়ালসহ বিএনপি ও দলটির অঙ্গসংগঠনের ১৫৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অপরদিকে গাড়ি ভাঙচুর, হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা, ক্ষতিসাধন ও হুমকির অপরাধে মেট্রোরেল প্রকল্পের লাইন-৬ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা করেছেন। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে শেরেবাংলা নগর থানায় এসব মামলা হয়।

মেট্রোরেল প্রকল্প কর্তৃপক্ষের মামলা দুটির একটিতে বিএনপি ও দলটির অঙ্গসংগঠনের ১০০ থেকে ১৫০০ জন নেতাকর্মী এবং অপরটিতে ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ দুটি মামলায় কারও নাম উল্লেখ না করে বলা হয়েছে, সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্যে আসামিদের শনাক্ত করা যাবে। তবে পুলিশের মামলায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, সদস্য সচিব আমিনুল হক, দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আ. সালাম ও সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু, উত্তর বিএনপি নেতা তাবিথ আউয়াল, দক্ষিণ বিএনপির নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ ১৫৩ জনের নাম রয়েছে।

পুলিশের মামলায় ঢাকা মহানগর বিএনপির উত্তর ও দক্ষিণ শাখার নেতাদের ছাড়াও বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড, ঢাকা মহানগর যুবদল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাদের নাম রয়েছে।

শেরেবাংলা নগর থানার ওসি জানে আলম মুন্সী জানান, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে ৪৭ জনকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বুধবার আদালতে হাজির করে ২৬ জনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে, অপর আসামিদের কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের মামলার আসামিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

গত মঙ্গলবার বিএনপির নবনির্বাচিত মহানগরের নেতারা চন্দ্রিমা উদ্যানে দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিতে যান। তখন পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। ওই সময়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুর করে। ওই এলাকায় মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ চলায় সেখানে প্রকল্পের কর্মকর্তাদেরও বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। হামলার শিকার হন প্রকল্পে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করা নিরাপত্তাকর্মী ও পুলিশ সদস্যরাও।

পুলিশের মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার হওয়া মামলার ১ থেকে ৪৭ নম্বর আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে পলাতক ৪৮ থেকে ১৫৩ নম্বর পর্যন্ত আসামিদের নাম-ঠিকানা জানিয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিরা জানিয়েছে, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের নির্দেশে তারাসহ এজাহারনামীয় পলাতক আসামি এবং আরও অজ্ঞাতনামা আসামিরা ঘটনায় জড়িত ছিল।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. শহিদুল্লাহ বলেন, পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত বলেই মনে হয়েছে। বিএনপির সঙ্গে কথা ছিল, কোনো ধরনের ঝামেলা না করে শুধু ফুল দিয়ে চলে যাবে। অথচ নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই তারা চন্দ্রিমা উদ্যানের আশপাশে অবস্থান নেয়। দেয়াল টপকে উদ্যানে ঢুকে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও নাশকতায় জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।