চক্রের সদস্য সংখ্যা ১৫-২০ জন। তারা নিজেদের পরিচয় দেয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে তারা লোকজনকে ফাঁদে ফেলে। এরপর মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে বন্ধ করে দেয় অফিস। এভাবে তিন-চার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রটির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো- জহিরুল ইসলাম ওরফে রিপন ও আবু ইয়ামিন ওরফে আশিকুর রহমান। মঙ্গলবার ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা ও রাজধানীর তালতলা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

এ ব্যাপারে জানাতে বুধবার রাজধানীর বনশ্রীতে পিবিআই ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে পিবিআই ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বিশেষ পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, বিদেশে পাঠানোর নামে ভুয়া ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এই চক্র। রাজধানীর গুলশানের ইউনিকর্ন প্লাজায় তাদের অফিস রয়েছে বলে বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ করলেও সেখানে তাদের কোনো শাখা বা অফিসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

তিনি জানান, চক্রের সদস্যদের কেউ কেউ নিজেকে উপসচিবসহ উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিত। তারা চলাফেরা করত দামি গাড়িতে। ভুয়া পরিচয়ের ভিজিটিং কার্ড বানিয়ে তারা সহজেই মানুষকে বোকা বানিয়ে আসছিল। সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা বলেও চক্রটি বিপুল অর্থ হাতিয়েছে বলে জানা গেছে। আল-আরাফাত ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর নামের ভুয়া এজেন্সির মাধ্যমে লোকজনকে বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণার অভিযোগে ৩১ জুলাই রামপুরা থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হয়।