ইয়াসমিন ট্র্যাজেডি দিবস ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে দিনাজপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখা। 

মঙ্গলবার দুপুরে দিনাজপুর দশ মাইল মোড় এলাকায় নিহত ইয়াসমিনের স্মৃতিস্তম্ভের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

এ সময় বক্তব্য দেন মহিলা পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি কানিজ রহমান, সাধারণ সম্পাদক ড. মারুফা বেগম, সহসভাপতি মিনতি ঘোষ, সাংগঠনিক সম্পাদক রুবিনা আক্তার, আন্দোলন সম্পাদক গৌরী চক্রবর্তী, সদস্য ফারাবি কবির, শুক্লা কুণ্ডু, রুকসানা বিলকিস প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, কিশোরী ইয়াসমিনকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিচার হয়েছে; ফাঁসির রায় কার্যকরও হয়েছে। তবে যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে আন্দালন, তা পূরণ হয়নি। আশা ছিল আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটবে না। কিন্তু বাস্তবচিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমরা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস পালন করছি, কিন্তু নারী নির্যাতন প্রতিরোধ করতে পারছি না। নারীর প্রতি সহিংসতা, নির্যাতন বন্ধে প্রয়োজন দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো। আর বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

এদিকে বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র গাইবান্ধা জেলা শাখার উদ্যোগে নিজস্ব কার্যালয়ে দিবসটি উপলক্ষে এক নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সংগঠনের জেলা সভাপতি সুভাষিণী দেবীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন কাজী আবু রাহেন শফিউল্যাহ খোকন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পী, রাহেলা সিদ্দিকা, মাসুদা আকতার, উম্মে নিলুফার তিন্নি প্রমুখ।

অন্যদিকে, নারীমুক্তি কেন্দ্র গাইবান্ধা জেলা শাখার অপর একটি গ্রুপ জেলা শহরের ১ নম্বর ট্রাফিক মোড়ে এক সমাবেশের কর্মসূচি পালন করে। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। অধ্যাপক রোকেয়া খাতুনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের জেলা সদস্য সচিব মনজুর আলম মিঠু, গাইবান্ধা কলেজিয়েট সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আফরোজা বেগম লিলি, নারীমুক্তি কেন্দ্র জেলা সম্পাদক প্রভাষক হালিমা খাতুন, পারুল বেগম, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের জেলা সংগঠক শামিম আরা মিনা প্রমুখ।

১৯৯৫ সালের এই দিনে কতিপয় বিপথগামী পুলিশ সদস্য ধর্ষণ ও হত্যা করে কিশোরী ইয়াসমিনকে। এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে দিনাজপুরের মানুষ। বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ। পুলিশের গুলিতে নিহত হন সামু, সিরাজ, কাদেরসহ পাঁচজন। সেদিন থেকেই সারাদেশে এই দিবসটি পালিত হচ্ছে 'নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস' হিসেবে।