পারিবারিক কলহের কারণে দীর্ঘ আট বছর আগে সংসার ত্যাগী হয়েছিলেন আব্দুল মালেক মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি। পরিবারের লোকজন অনেক খুঁজেও তাকে পায়নি। দীর্ঘ আট বছর পর পরিবার তাকে পেল। তবে জীবিত নয়, লাশ। 

আব্দুল মালেকের লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে আট দিন পড়েছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে। মালেক পাংশা পৌর এলাকার মাগুড়াডাঙ্গি গ্রামের মৃত হাচেন আলী মণ্ডলের ছেলে। মঙ্গলবার বিকেলে বালিয়াকান্দি থানা পুলিশের মাধ্যমে তার লাশ ভাই কাদের মণ্ডলের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

থানা সূত্র জানায়, গত ১৬ আগস্ট উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা দিনেশ চন্দ্র বিশ্বাসের বাড়িতে কাজ করতেন আব্দুল মালেক নামে ওই ব্যক্তি। পরদিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মোটরসাইকেলের চাপায় তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ আগস্ট তিনি মারা যান। 

লাশটি অজ্ঞাত হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বেওয়ারিশ হিসেবে মর্গে রেখে দেয়। এদিকে বালিয়াকান্দি থানার পুলিশ লাশের পরিচয় শনাক্তে তৎপরতা শুরু করে। তারা ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাশের ছবি দিয়ে স্বজনের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে সন্ধান পাওয়া যায় তার পরিবারের। মঙ্গলবার বিকেলে নিহতের ভাইয়ের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।

নিহতের ভাই আব্দুল কাদের মণ্ডল জানান, তার ভাই মালেক মণ্ডল বিদেশে থেকে যে টাকা উপার্জন করেছিলেন, তার সবই স্ত্রীর নামে রেখেছিলেন। বিদেশ থেকে ফিরে টাকা নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়। মনের ক্ষোভে আট বছর আগে বাড়ি ছেড়ে নিরুদ্দেশ হন। তাকে অনেক খোঁজা হয়েছিল। অবশেষে বালিয়াকান্দি থানা পুলিশের সহযোগিতায় খবর পান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি লাশ রয়েছে। সেখানে গিয়ে ভাইয়ের লাশ শনাক্ত করেন তিনি।

বালিয়াকান্দি থানার ওসি তারিকুজ্জামান জানান, নিহত মালেক মণ্ডল তার নাম পরিবর্তন করে খালেক মণ্ডল হিসেবে ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার ব্যাপারীপাড়া ঠিকানা উল্লেখ করে বিভিন্ন স্থানে কাজ করে আসছিলেন। থানা থেকে পরিচয় শনাক্তে তৎপরতা চালানোর পর ঠিকানা মেলে। পরে তার পরিবারের কাছে লাশটি হস্তান্তর করা হয়।