সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠিয়ে জমিসহ পাকা ঘর পেয়েছেন মাগুরা সদর উপজেলার রামনগরের প্রতিবন্ধী কলেজছাত্র বাবু মিয়া। সে মাগুরা শহরের আদর্শ কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

মাগুরা জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম শনিবার বিকেলে সদরের হাজরাপুর ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় উপস্থিত থেকে বাবু মিয়ার কাছে বাড়ি ও জমির দলিল বুঝিয়ে দেন। হাজরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে দুই শতক সরকারি খাস জমিতে সেমি পাকা দুই কক্ষের টিন সেডের ঘর নির্মিত হয়েছে।

বাক প্রতিবন্ধী কলেজছাত্র বাবু মিয়া লিখে জানান, ‌‘বাবা মারা যাওয়ার পর কোনো জমি না থাকায় মাকে নিয়ে নানা বাড়িতে থেকেছি। গৃহহীন অবস্থায় নিজের মাথা গোজার ঠিকানার অনেক কষ্ট করে প্রধানমন্ত্রীর মোবাইল নাম্বার জোগাড় করি। পরে প্রধান মন্ত্রীর কাছে মোবাইলে বাড়ি চেয়ে এসএসএস করি। প্রধানমন্ত্রী আমার এসএস.সটি পড়ে মাগুরা জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন বাড়ি করে দেওয়ার। জেলা প্রশাসক হাজরাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় হাজরাপুর পুরাতন বাজার হাইওয়ে সড়কের পাশে দুইশতক জমিতে পাকা ঘর করে দেন। আল্লাহর কাছে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করি।’

বাবু মিয়ার মা হাসনা হেনা বেগম বলেন, চার সন্তানের মধ্যে বাবু সবার ছোট। ছোটবেলা থেকে বাবু কথা বলতে পারে না। স্বামী মারা যাওয়ার পর বছরের পর বছ ধরে চার সন্তান নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতে একটি ঝুপড়ি ঘরে অনেক কষ্টে বসবাস করছেন। বাড়ি করার মতো জমি থাকায় বাবু প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাড়ি চেয়ে মোবাইলে এসএমএস করে। এর পর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তাদের পাকা ঘর করে দেন।

জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম বলেন, বাবু মিয়া তার নিজের অসহায়ত্বের কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এসএমএস করেন। তিনি এসএমএস করে লেখেন- ‘আমি প্রতিবন্ধি বাবু মিয়া, আমি মাকে নিয়ে ৪ ভাই-বোন ছোট বেলা থেকে নানা বাড়িতে জীবনযাপন করছি। আমাদের কোনো জমি নেই। আমাদের বসবাসের জন্য একটি ঘর অতি দরকার। প্রধানমন্ত্রী আমার একটি ঘর করে দিলে চির কৃতজ্ঞ থাকবো।’ প্রধানমন্ত্রী এসএমএসটি দেখে বাবু মিয়াকে সরকারি সহায়তায় ঘর করে দেওয়ার আদেশ দেন। সে মোতাবেক তাকে জেলা প্রাশাসনের পক্ষ থেকে ঘর ও জমির দলিল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।