ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এক কর্মকর্তাকে ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা 'ঘুষ' দেওয়া সংক্রান্ত কথোপকথনের অডিওর বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার। তিনি বলেন, 'আমাদের এক অফিসারের অডিও ফাঁসের, ঘুষের বিষয়ে বিভিন্ন কথাবার্তা এসেছে। আমরা সবগুলো বিষয় তদন্তের আওতায় আনছি।'

ডিবি পরিচয়ে ডাকাতি-ছিনতাইয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে জানাতে বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের বরখাস্ত হওয়া এসআই আকসাদুদ জামান। 'ঘুষের একটি অডিও- নেপথ্যে কী' এই শিরোনামে বুধবার সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে কথা বলেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার। তার দাবি, বিমানবন্দর থানার ছিনতাই মামলায় গ্রেপ্তারকৃতদের ছাড়িয়ে নিতে ডিবি কর্মকর্তাকে ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার সমন্বয় করেন তিনি। পরে তাকে আরও ১৪ লাখ টাকা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, 'ফাঁস হওয়া একটি অডিওর বিষয়ে সাম্প্রতিককালে অনেকে আমাকে প্রশ্ন করেছেন। মামলাটির মেরিট (গুরুত্ব) যেন নষ্ট না হয় সেটিও দেখতে হবে। ডিবি পরিচয়ে ঢাকা শহরে কোথাও যদি ছিনতাই বা ডাকাতি হয়, সেটা দেখার দায়িত্ব আমাদের। এখানে টাকা উদ্ধারের বিষয় আছে, মামলার মেরিট নষ্ট হওয়ার বিষয় আছে, আবার এসআইয়ের বিষয়গুলো আছে। এখানে টাকার অঙ্ক অনেক বড়, এই অঙ্ক আসলেই তার কাছে...সে কোথা থেকে পেল এবং আমার অফিসার জড়িত কি না তদন্ত করছি।' এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

ছিনতাইয়ের মামলায় জড়িত এসআইকে কেন প্রায় ১১ মাস পর গ্রেপ্তার করা হলো? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'এই ঘটনায় সে বরখাস্ত ছিল। সাম্প্রতিককালে আরও কিছু তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল। তাকে রেখে দিয়েছিলাম যে, যেহেতু সে বরখাস্ত আছে, তাছাড়া প্রথমেই কিন্তু তার নাম আসেনি। সে এজাহারভুক্ত আসামি না। পরে তার নাম জেনেছি। একটা মামলা তদন্ত করতে গেলে অনেক তথ্য রাখতে হয়। যেহেতু সে সার্ভিং (চাকরিরত), তার পালানোর কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু শেষপর্যন্ত সে পালিয়েছিল। এখন কিন্তু তাকে গ্রেপ্তার করেছি।'

ডিবির প্রধান জানান, এর আগে গত বছরের ১৯ অক্টোবরে বিমানবন্দরের কাওলা এলাকায় প্রবাসীর কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রাসহ অন্যান্য মালপত্র ছিনতাইয়ের ঘটনায় ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই চক্রের হোতা এসআই আকসাদুদ জামানকে বুধবার রংপুরের মিঠাপুকুর থানার শঠিবাড়ি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।

এর আগে ডিবির এক কর্মকর্তাকে এক কোটি ৪২ লাখ ঘুষ টাকা দেওয়া হয়েছে- এমন একটি কথোপকথনের অডিওর ভিত্তিতে তথ্যানুসন্ধান করে সমকাল। ওই অডিওতে এক নারী বলছেন, 'এক কোটি ২৮ লাখ তো নিছেন আপনারা সবাই, আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে ১৪ লাখ দিছি না?' অপরপ্রান্তে থাকা পুরুষকণ্ঠও টাকা কোনো এক স্যারকে দেওয়ার কথা বলছেন। পরে জানা যায়, নারীকণ্ঠটি এসআই আকসাদুদ জামানের স্ত্রী তহমিনা আক্তারের। ওই কর্মকর্তা নিজেই সমকালের কাছে বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তার দাবি, অপরপ্রান্তের কণ্ঠটি ডিবির উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার কায়সার রিজভী কোরায়েশীর। অবশ্য ডিবির এই কর্মকর্তা বলেছেন, অডিওটি বানোয়াট, কণ্ঠ তার নয়।