দুর্নীতির মামলায় সাময়িক বরখাস্ত কারা উপমহাপরিদর্শক পার্থ গোপাল বণিককে খাস কামরায় জামিন দেওয়া ও অতি গোপনে জামিন আদেশ কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ইকবাল হোসেনকে সর্বোচ্চ সতর্ক করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। রায়ে বলা হয়েছে, জেলা জজ পর্যায়ের একজন বিচারকের এ ধরনের ঘটনা লজ্জাজনক এবং আইনের সঙ্গে সঙ্গতিহীন। 

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া ১২ পৃষ্ঠার রায়ে এই মন্তব্য করা হয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট পার্থ গোপাল বণিকের জামিন বাতিল করেন। বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত হাইকোর্ট পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়।
রায়ে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চের বিচারকরা বলেন, 'আমাদের বলতে দ্বিধা নেই যে জেলা জজ পর্যায়ের একজন বিচারকের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ ও কর্ম প্রত্যাশিত নয়। তার এ ধরনের আদেশ উচ্চ আদালতের প্রতি অবজ্ঞা এবং যা আদালত অবমাননার শামিল। হাইকোর্ট বিভাগ ইতিপুর্বে আসামির জামিন নাকচ করে দ্রুত মামলার নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন। বিজ্ঞ বিচারক আসামিকে জামিন প্রদান করে হাইকোর্টের আদেশকে অবজ্ঞা করেছেন।'
গত ১৭ জুন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ইকবাল হোসেনের ভার্চু্যয়াল আদালত পার্থ গোপাল বণিককে ১৫ জুলাই পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন। এরপর তিনি কারামুক্ত হন। পরে ওই জামিন বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরপর ২ সেপ্টেম্বর পার্থ গোপাল বণিককে নিম্ন আদালতের দেওয়া জামিন বাতিল করেন হাইকোর্ট।

২০১৯ সালের ২৮ জুলাই দুদকের সেগুনবাগিচার প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের পরিচালক মুহাম্মদ ইউছুফের নেতৃত্বে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় পার্থ গোপাল বণিককে। ঘুষ ও দুর্নীতির কয়েক লাখ নগদ টাকা তার বাসায় রয়েছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে সেদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পার্থ গোপাল বণিকের বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৮০ লাখ টাকা জব্দ করা হয় এবং তাকে গ্রেপ্তফতার করে নিয়ে আসা হয়। পরদিন\হজ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও পাচারের অভিযোগে পার্থ গোপাল বণিকের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলাটি তদন্ত করে গত বছরের ২৩ আগস্ট পার্থ গোপাল বণিকের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক। পার্থ গোপাল বণিক ২০০২ সালে জেল সুপার পদে চাকরিতে যোগ দেন। ২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর তিনি কারা উপমহাপরিদর্শক পদে পদোন্নতি পান।