অনিবন্ধিত ও অননুমোদিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল এক সপ্তাহের মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ও প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যানকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত সম্পুরক আবেদনের শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রাশিদা চৌধুরী নীলু ও জারিন রহমান। রাস্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।

আদেশের পর রাশিদা চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, অননুমোদিত ও অনিবন্ধিত অনলাইন মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়ে গত আগস্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছিল। তখন আদালত রিটের শুনানি নিয়ে রুলসহ আদেশ দিয়েছিলেন। এবার ওই রিটেই সম্পুরক আবেদন করে অনিবন্ধিত, অনুমোদিত নিউজপোর্টাল বন্ধের আরজি জানিয়েছিলাম। ওই আবেদনে সংশ্নিষ্টদের সাত দিনের মধ্যে অনিবন্ধিত, অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল বন্ধ করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার গুলশানে কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় অনেক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, মানহানিকর প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এ পরিপ্রেক্ষিতে সংবেদনশীল সংবাদসহ যেকোনো খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে সংবাদ মাধ্যমগুলোর জন্য `নৈতিক নীতিমালা' প্রনয়ণ চেয়ে গত ২৫ মে সরকারের সংশ্নিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠায় দুই আইনজীবী রাশিদা ও জারিন। ওই নোটিশের জবাব না পেয়ে পরে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন তারা। ১৬ আগস্ট ওই রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। রুলে ন্যাশনাল অনলাইন মাস মিডিয়া পলিসি ২০১৭ অনুযায়ী দেশে অননুমোদিত ও অনিবন্ধিত অনলাইন মিডিয়াগুলো কেন বন্ধ করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। এরই ধারাবাকিতায় গতকাল ফের সম্পুরক আবেদন করে অনিবন্ধিত, অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল বন্ধের জন্য আদালতের নির্দেশ চান রিটকারীরা।

রিট আবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি রাজধানীতে ২১ বছরের এক মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দণ্ডবিধি আইনের ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। এই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে দেশের সংবাদ মাধ্যমগুলোর মধ্যে বিশেষ করে অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোতে অগ্রহণযোগ্যভাবে সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে। অথচ এসব সংবাদ পরিবেশনা বন্ধে বিটিআরসি কিংবা প্রেস কাউন্সিল কোনো উদ্যোগ নেয়নি।