রাজধানীর মিরপুরে জুয়েল রানা (২৫) নামে এক যুবককে হত্যার পর লাশ ড্রামে ভরে রাস্তায় ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মিরপুরের লাভ রোডে ড্রামটি পাওয়া যায়। তবে তখন তার পরিচয় জানা যায়নি। শুক্রবার বিকেলে তার স্বজনরা লাশ শনাক্ত করেন। পুলিশ জানিয়েছে, কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর জোনের সহকারী কমিশনার এস এম মঈনুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ড্রামের ভেতর থেকে লাশ উদ্ধারের পর তার পরিচয় জানার চেষ্টা চলছিল। এর মধ্যে গতকাল মোসা. সালমা নামে এক নারী রাজধানীর দারুসসালাম থানায় তার স্বামী নিখোঁজের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে যান। তার বর্ণনা শুনে পুলিশ ধারণা করে, উদ্ধার হওয়া লাশটি তার স্বামীর হতে পারে। এরপর তাকে লাশের ছবি দেখানো হয়। এ সময় তিনি তাকে তার স্বামী বলে শনাক্ত করেন। পরে তাকে নিয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে যায় পুলিশ। সেখানে লাশ দেখে তিনি পরিচয় নিশ্চিত করেন।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর গাবতলী এলাকায় থাকতেন জুয়েল রানা। দু'দিন ধরে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। কে বা কারা কেন তাকে হত্যা করেছে, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। নিহত যুবকের ব্যাপারেও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে মিরপুরের লাভ রোডে একটি নীল রঙের ড্রাম পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হলে লোকজন পুলিশকে জানায়। পুলিশ গিয়ে ড্রাম খুলে গলায় রশি বাঁধা অবস্থায় একটি মৃতদেহ পায়। সেটি পচতে শুরু করেছে। তার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

মিরপুর থানার ওসি মোস্তাজিরুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, যেখানে ড্রামটি পাওয়া যায়, সেই জায়গাটি অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল। ফলে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে কোনো ক্লু মেলেনি। ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কোথাও শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ ড্রামে ভরে এই স্থানে ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। তার পরনে ছিল জিনস ও ছাই রঙের টি-শার্ট।