টসের তখন কুড়ি মিনিটের মতো বাকি। কিন্তু প্রেসবক্সে বসা ক্রিকইনফোর রিপোর্টার দানিয়াল রসুল টসের কোনো লক্ষণই দেখতে পেলেন না। মাঠেও কোনো দর্শক নেই। হোটেল থেকে দুই দলের একদলও মাঠে আসেনি। এর পরই জানা যায়, নিরাপত্তা শঙ্কায় সফর বাতিল করে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে নিউজিল্যান্ড দল। কিউইদের এমন সিদ্ধান্তে ভীষণ হতাশ পুরো পাকিস্তান। পিসিবির (পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড) নতুন চেয়ারম্যান রমিজ রাজা তো কিউইদের এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন, 'নিরাপত্তার হুমকির ব্যাপারে এভাবে একতরফা দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সফর বাতিল করে চলে যাওয়া খুবই হতাশার। বিশেষ করে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই। নিউজিল্যান্ড কোন দুনিয়ায় বসবাস করে? আইসিসিতে তারা আমাদের জবাব পাবে।'

তিন ওয়ানডে ও পাঁচ টি২০'র সিরিজটি শুরু হওয়ার কথা ছিল গতকাল রাওয়ালপিন্ডিতে। কিন্তু সকাল থেকে অনেকটা সময় অনিশ্চয়তায় থাকার পর নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড (এনজেড) এক বিবৃতি দিয়ে সফর বাতিল করে। তারা জানিয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের নিরাপত্তাজনিত যে হুমকির খবর তাদের কাছে আছে, এরপর এ সফর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বিবৃতিতে কিউই বোর্ড জানায়, 'পাকিস্তানকে নিয়ে নিউজিল্যান্ড সরকারের নিরাপত্তা হুমকি অবনতি হওয়া, মাঠে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের নিরাপত্তা কর্মকর্তার পরামর্শক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, ব্ল্যাকক্যাপরা এ সফর চালিয়ে যাবে না। দলের পাকিস্তান ত্যাগ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।' তবে নিরাপত্তা হুমকি নিয়ে ও পাকিস্তান ছাড়ার ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো মন্তব্য করবে না বলেও বিবৃতিতে জানিয়েছে কিউই বোর্ড। এভাবে হুট করে সফর বাতিল করায় পিসিবির যে অনেক বড় ক্ষতি হচ্ছে সেটাও বুঝতে পারছেন নিউজিল্যান্ড বোর্ডের প্রধান নির্বাহী ডেভিড হোয়াইট, 'আমি জানি, এটা পিসিবির জন্য অনেক বড় আঘাত। তারা দারুণ আতিথেয়তা দিয়েছে আমাদের। কিন্তু যে পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছে, তাতে এ সফর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। সবার ওপরে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা। এটাই (সফর বাতিল করা) একমাত্র দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত বলে আমরা মনে করি।' নিউজিল্যান্ড প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী হিথ মিলসও তার সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন, 'আমরা এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত এবং এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানাই।' তবে পিসিবি জানিয়েছে, এককভাবে সফরকারীরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, 'আজ নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড আমাদের জানিয়েছে, নিরাপত্তা নিয়ে তাদের সতর্ক করা হয়েছে এবং তারা এককভাবে সিরিজ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।' নিরাপত্তাজনিত কোনো হুমকির খবর তাদের কাছে নেই বলে জানিয়েছে পিসিবি। এমনকি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ফোন করে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করে নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বাসও দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। বাংলাদেশ সফর শেষ করে পাকিস্তান গিয়ে না খেলেই বাড়ি ফিরছে কিউইরা।

২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কা দলের ওপর ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর থেকেই পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বন্ধ। অবশ্য নিউজিল্যান্ড আরও আগে থেকে পাকিস্তান যায় না। ২০০২ সালে করাচিতে কিউইদের হোটেলের সামনে বোমা বিস্ম্ফোরণের পরের বছর তারা পাকিস্তান গেলেও এরপর গত ১৮ বছর তারা আর সে মুখো হয়নি। এতদিন পর তারা পাকিস্তান গেলেও নিরাপত্তা শঙ্কায় মাঠের খেলা আলোর মুখ দেখেনি। তারা সফর বাতিল করায় গত দুই বছর ধরে দেশের মাটিতে পিসিবির ক্রিকেট ফেরানোর চেষ্টাও বড় ধাক্কা খেল।