ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে প্রতি মাসে এক কোটিসহ মোট দুই কোটি ডোজ করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক টিকাদানের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। 

রোববার সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে উপস্থিত হয়ে তিনি টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।

ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ‘বয়স্ক জনগোষ্ঠীর বিষয়টি বিবেচনা করে প্রতি সপ্তাহে স্পট নিবন্ধনের মাধ্যমে একদিন করে টিকা দেওয়া হবে। শুধুমাত্র ৬০ বছর ও তার ওপরের বয়সী নাগরিকরা এ সুবিধা পাবে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ষাটোর্ধ্ব জনগোষ্ঠী বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সংক্রমিত হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যাও বেশি। সুতরাং এটি মাথায় রেখে টিকাদান কার্যক্রমে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’

খুরশীদ আলম জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে টিকার পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। একইসঙ্গে সামনের দিনগুলোর জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক টিকাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। এ অবস্থায় মাঠপর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি কিভাবে সম্প্রসারণ করা যায়, সে বিষয়ে ভাবছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

তিনি বলেন,‘১২ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের টিকাদানের বিষয়েও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।’

ইতোমধ্যে দেশের স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া হয়েছে। তাই আগের মতো স্কুল-কলেজে টিকাদান স্থাপন করা সম্ভব হবে না। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশাপাশি উপজেলা মিলনায়তন ও উপজেলার যে কোনো বড় হলরুমে টিকাদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান অধ্যাপক খুরশীদ আলম।

একইসঙ্গে ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়মিত টিকাদানের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সহকারীদের মাধ্যমে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হবে। সপ্তাহের যে দুই দিন নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম থাকবে না-এমন দিনগুলোতে সেখানে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়া হবে। 

উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনার কর্মকর্তারা কোভিড-১৯-এর টিকাদান কেন্দ্র হিসেবে একটি ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্ধারণ করবেন। টিকাপ্রত্যাশীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকার জন্য নিবন্ধন করবেন এবং এসএমএস প্রাপ্তি সাপেক্ষে নির্ধারিত কেন্দ্র থেকে টিকা নেবেন।