দেশের সব নাগরিকের প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে জাতীয় জনসংখ্যা রেজিস্ট্রার (এনপিআর) নামে স্বতন্ত্র একটি তথ্যভাণ্ডার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে নবজাতক থেকে শুরু করে প্রত্যেক নাগরিকের আঙুলের ছাপসহ ২৯ রকমের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায়ে যত ধরনের তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে, সেগুলোকেও এনপিআরে সমন্বয় করা হবে।

এনপিআরের তথ্য সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ কৌশল কী হতে পারে- এ নিয়ে রোববার পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একটি কর্মশালা হয়। বিবিএস আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।

বর্তমানে জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) ১৮ বছর ও এর বেশি বয়সী নাগরিকদের নির্দিষ্ট কিছু তথ্য থাকে। এতে সব রকমের সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। এনপিআর হলে ভূমি-সংক্রান্ত মামলার জটিলতা এড়ানো যাবে। সব ধরনের প্রশাসনিক কাজে এনপিআরের ব্যাপক ব্যবহার করা যাবে। সব ধরনের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকবে এতে। তবে এনপিআর কোনো নাগরিকের হাতে দেওয়া হবে না। বরং সরকারই সংরক্ষণ করবে।

কর্মশালায় পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, কয়েক প্রজন্মের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে এনপিআরে। তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সুরক্ষার বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে বিবিএসকে। কারণ, ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে বাণিজ্য করার সুযোগ আছে এবং অনেক দেশে এ ধরনের বাণিজ্যের ঘটনাও ঘটেছে।

তথ্য সংগ্রহ এবং সংরক্ষণে সতর্কতার পরামর্শ দিয়ে বিবিএস কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ভুল তথ্য নিয়ে বাইরে অনেক সমালোচনা শুনতে হয়। মানবিক ভুল মেনে নেওয়া যায়। ইচ্ছাকৃত কিংবা অবহেলাজনিত ভুল মেনে নেওয়া হবে না।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, নেদারল্যান্ডসে ১৮৫০ সাল থেকে এনপিআর চালু আছে। সভ্য অনেক দেশেই এই ব্যবস্থা আছে এখন। ২৯ ধরনের তথ্য থাকলে সরকারের পক্ষে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ অন্যান্য সেবা দেওয়া সহজ হবে। সময়মতো কাজটি শেষ করতে বিবিএসের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ড. শামসুল আলম বলেন, 'সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সময়। সব কাজেই এখানে বেশি সময় লাগে। বাড়তি সময় ব্যয় মানে অর্থের অপচয়। এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন পরিকল্পনা কমিশনের সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারী, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী। পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ইয়ামিন চৌধুরী কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন।