ভারত প্রায় ছয় মাস টিকা রপ্তানি স্থগিত রাখার পর আগামী মাসের শুরু থেকে বিদেশে আবার প্রতিষেধকটি বিক্রি শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখভাই মান্ডভিয়া সোমবার নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে রপ্তানি শুরু করার ঘোষণা দেন। রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারতের প্রতিবেশীরাই গুরুত্ব পাবে বলে তিনি জানিয়েছেন। খবর এনডিটিভির।

বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কাসহ যেসব দেশে আবার টিকা পাঠানো হবে, তার পুরোটাই হবে সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড। বাংলাদেশ ভারত থেকে তিন কোটি ডোজ টিকা কেনার চুক্তি করলেও রপ্তানি বন্ধের আগ পর্যন্ত পেয়েছে মাত্র ৭০ লাখ। ভারত আকস্মিকভাবে টিকা রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় বাংলাদেশ চরম সংকটে পড়ে। টিকাদান কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

ভারতে তখন মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়। ফলে দিল্লি সিদ্ধান্ত নেয়, রপ্তানি বন্ধ করে তাদের নাগরিকদের টিকাদানকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬১ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক অন্তত এক ডোজ টিকা পেয়েছেন। টিকার উৎপাদনও ছয় মাস আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। আগামী মাস থেকে দেশটিতে মাসে ৩০ কোটি ডোজ টিকা উৎপাদিত হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে কোয়াডভুক্ত চার দেশের নেতাদের একটি বৈঠকের আগে টিকা রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ভারত। মোদিও ওই বৈঠকে অংশ নেবেন। বিশ্বের বৃহত্তম টিকা উৎপাদনকারী ভারতকে রপ্তানি ফের শুরু করার জন্য চাপ দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।