দুই মন্ত্রী সরেজমিন পরিদর্শন করে ঘোষণা দিয়েছিলেন, শনিবার থেকে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুরু হবে বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষা। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ল্যাব স্থাপনের কাজ শুক্রবার শেষ হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কারিগরি কমিটির অনুমোদন না পাওয়ায় শনিবার পরীক্ষা হবে না। অনুমতি পেলে রোববার থেকে বিমানবন্দরে সংযুক্ত আরব আমিরাতগামীদের করোনার র‌্যাপিড পরীক্ষা শুরু হবে।

এর আগে শনিবার নির্মাণাধীন ল্যাব পরিদর্শন করে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেছেন, শুক্রবারের মধ্যেই কাজ শেষ হবে। শনিবার থেকে পরীক্ষা শুরু হবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের যে যাত্রীরা বুকিং দিয়েছেন, শনিবার যদি তাদের ফ্লাইট যায়, তাহলে তারা পরীক্ষা করাতে পারবেন।

প্রতিদিন গড়ে আড়াই থেকে তিন হাজার যাত্রী আরব আমিরাতে যান। মন্ত্রী বলেছেন, ছয় প্রতিষ্ঠান ১২টি ল্যাব স্থাপন করছে। তারা প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরীক্ষা করাতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদি না পারে, সেক্ষেত্রে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।

বহু প্রবাসী ছুটিতে দেশে এসে চীনা টিকা নিয়েছেন। অনেক দেশেই চীনা টিকা স্বীকৃত নয়। ফলে তাদের কর্মস্থলে ফিরে গিয়ে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন করতে হচ্ছে বাড়তি টাকা খরচ করে। প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেছেন, চীনা টিকা নেওয়া বিদেশগামীদের বুস্টার ডোজ দেওয়ার অনুরোধ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছেন। তবে এখনও সাড়া পাননি।

এর আগে বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আরটি-পিসিআর মেশিন স্থাপনের কাজ পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকও জানিয়েছিলেন শনিবার থেকে পরীক্ষা করা হবে।

বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, আরটি-পিসিআর ল্যাব স্থাপনের কাজ শেষ। সবকিছুই প্রস্তুত হয়ে গেছে। এখন শুধু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টেকনিক্যাল টিম পরিদর্শন করে অনুমতি দিলেই আগামীকাল রোববার থেকে শুরু হবে পরীক্ষা।

বিমান উড্ডয়নের সর্বোচ্চ ছয় ঘণ্টা আগে করোনার র‌্যাপিড টেস্ট করার শর্ত দিয়েছে আমিরাত। এ কারণে গত মে থেকে দেশটিতে কর্মরত প্রবাসীরা যেতে পারছেন না। তাদের সংখ্যা ৪০ থেকে ৫০ হাজার। গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকে দু-তিন দিনের মধ্যে ল্যাব স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু ল্যাব বাছাইয়ে সমন্বয়হীনতা ও বারবার সিদ্ধান্ত বদল, টানাপোড়েনে ২০ দিনেও পরীক্ষা শুরু করা যায়নি।