সুনির্দিষ্ট বিধি বা আইন প্রণয়ন না করা পর্যন্ত দুর্নীতির মামলায় আসামি বা সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তির বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদন পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ভার্চুয়াল বেঞ্চ সোমবার হাইকোর্টের আদেশ সংশোধন করে পর্যবেক্ষণসহ এ রায় দেন। তবে হাইকোর্টের আদেশ সংশোধন এবং পর্যবেক্ষণে কী থাকবে, তা রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর জানা যাবে।

সুনির্দিষ্ট বিধি বা আইন প্রণয়ন না করা পর্যন্ত দুর্নীতির মামলায় আসামি বা সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তির বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়ে দুদক নয়, সিদ্ধান্ত দেবেন বিশেষ জজ আদালত- গত ১৬ মার্চ এমন অভিমত দিয়ে পৃথক পাঁচটি রিটে রায় ও আদেশ দেন হাইকোর্ট। পরে হাইকোর্টের ওই রায় ও আদেশের বিরুদ্ধে পৃথক লিভ টু আপিল (আপিল অনুমতি) আবেদন করে দুদক। এর পর গত ১৩ সেপ্টেম্বর শুনানি শেষে রায়ের দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রায় দেওয়া হয়।

আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। অন্যপক্ষে ছিলেন আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী, মুরাদ রেজা, মাহবুব উদ্দিন খোকন, আরশাদুর রউফ ও মো. রুহুল কুদ্দুস।

দেশত্যাগে দুদকের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে পৃথক পাঁচটি রিট বিচারাধীন ছিল। এর মধ্যে একটি হলো নরসিংদীর আতাউর রহমানের মামলা। বিদেশ যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নরসিংদীর আতাউর রহমান ওরফে সুইডেন আতাউর রহমানের করা এক রিট আবেদনে জারি করা রুলের ওপর ১৬ মার্চ রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, সুনির্দিষ্ট বিধি বা আইন প্রণয়ন না করা পর্যন্ত দুর্নীতি মামলার আসামি বা সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তির বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়ে দুদক নয়; সিদ্ধান্ত দেবেন বিশেষ জজ আদালত।

এর ব্যাখ্যায় হাইকোর্ট আরও বলেন, বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়ে দুদকের সুনির্দিষ্ট আইন বা বিধি নেই। এ কারণে এ বিষয়ে দ্রুত সুনির্দিষ্ট আইন বা বিধিমালা করা প্রয়োজন। তাই আশা করছি, এ বিষয়ে দুদক বা সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয় আইন বা বিধি করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।