দুবাইয়ে অর্থ পাচারের অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টা ও এনটিভির চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক আলী ফালুসহ চার জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার দুদক তদন্ত কর্মকর্তা ও উপপরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশের কাছে চার্জশিটটি পেশ করেন।

চার্জশিটে বলা হয়, ফালু প্রতারণা ও জালিয়াতি করে বিনিয়োগের নামে দুবাইয়ে ১৮৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা পাচার করেছেন। এভাবে দেশে অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ দুবাইয়ে পাচার করেন তিনি।

চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন- আরএকে সিরামিকস ও রাখেন ডেভেলমেন্ট কোম্পানির এমডি এস এ কে একরামুজ্জামান, স্টার সিরামিকস লিমিটেডের পরিচালক সৈয়দ এ কে আনোয়ারুজ্জামান, পরিচালক মো. আমির হোসাইন।

ফালুসহ চার আসামির বিরুদ্ধে ১৮৩ কোটি ৯২ লাখ টাকার সম্পদ অবৈধভাবে অর্জন ও পাচারের অভিযোগে গত ২০১৯ সালের ১৩ মে মামলাটি করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার এই মামলার চার্জশিট দেওয়া হলো। মামলার তদন্ত কার্যক্রম তদারক করেছেন দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন।

চার্জশিটে আরও বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে দুর্নীতির মাধ্যমে দেশে শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। বিভিন্ন সময়ে এ সম্পদ পাচার করছেন তারা। এর অংশ হিসেবে ১৮৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা পাচার করে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর ৪ (২), (৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এখন পর্যন্ত যেসব তথ্য পাওয়া গেছে তাতে ফালু নিজে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন।

ফালুর ৩৪৩ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ: আদালতের আদেশ অনুযায়ী ব্যবসায়ী মোসাদ্দেক আলী ফালুর ৩৪৩ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সম্প্রতি ওইসব সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছেন।

ফালুর জব্দ হওয়া সম্পদগুলো হলো- তার মালিকানাধীন আল মদিনা ইন্টারন্যাশনালের নামে দুবাইয়ে চালু করা শেল কোম্পানি, থ্রি স্টার লিমিটেড নামের আরেকটি কোম্পানি, রাখেন ডেভেলমেন্ট কোম্পানিতে ২০ শতাংশ শেয়ার, রাখেন ডেভেলমেন্ট ইইউই'তে তিনটি ক্যাশ ট্রান্সফারের মাধ্যমে ১৯ মিলিয়ন এইডি ও ১৭ টি চেক পেমেন্ট/ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে  জমা করা ১১ মিলিয়ন এইডি, রাখেন ডেভেলমেন্ট ইউএইয়ের হিসাবে জমাকৃত ২ কোটি ৮৯ লাখ ৯৯ হাজার (বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি)।

দুবাইয়ে পাচার করেন ১০৬ কোটি ৬৪ লাখ ও ৭৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা, রোজা প্রোপার্টিজে ৯৩ কোটি টাকার শেয়ার, রাকীন ডেভেলমেন্ট কোম্পানিতে ২ কোটি ৬৯ লাখ টাকার শেয়ার, রোজা এন্টারটেইনমেন্টে ২০ লাখ টাকার শেয়ার, রোজা ইনভেস্টমেন্টে ২৯ লাখ ৪০ হাজার টাকার শেয়ার, আইএফআইসি ব্যাংকে জমানো টাকা জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া তার নামে জমি, ফ্ল্যাট, প্লট জব্দ করা হয়।