‘প্রতিদিন ডিম খাই, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াই’ প্রতিপাদ্যে সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে বিশ্ব ডিম দিবস। 

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি), ওয়ার্ল্ডস পোলট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখা এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) যৌথ উদ্যোগে রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।প্রতি দিন ডিম খাই, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াই- এই স্লোগানে ফরিদপুরে বিশ্ব ডিম দিবস পালিত হয়েছে। 

আমাদের ফরিদপুর অফিস জানিয়েছে, ফরিদপুর জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের আয়োজনে শুক্রবার সকালে শহরের টেপাখোলায় অবস্থিত সরকারি শিশু পরিবার ক্যাম্পাসে র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালি শেষে সেখানে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: নুরুল্লাহ মো. আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক অতুল সরকার। 

আলোচনা সভায় অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক আলী আহসান, সহকারী পরিচালক মোহাম্মাদ নূরুল হুদা, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বীজন নন্দী, ডেইরী ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মীর কাশেম আলী, এম এম বি জামান সেন্টু, আব্দুল মান্নান।

আলোচনা সভা শেষে সরকারি শিশু পরিবারের শিশুদের ৩০০ ও শেখ রাসেল শিশু কিশোর কেন্দ্রে শিশু-কিশোরদের মাঝে ২০০টি ডিম বিতরণ করা হয়।

ডিম খেতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে প্রতিবছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার দিবসটি পালন করা হয়। 

বিপিআইসিসি জানিয়েছে, ডিম দিবস উপলক্ষে সেমিনার, ডিমের পুষ্টিগুণ জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম, এতিমখানায় ডিম বিতরণ, সারাদেশে পোস্টার ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষামূলক লিফলেট বিতরণ করা হবে।

১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক এগ কমিশনের কনফারেন্সে প্রতিবছর ডিম দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়। উদ্দেশ্য হলো, ডিমের খাদ্যমান ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করা এবং স্বাস্থ্যসম্মত ডিম উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও ভোক্তার দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় ডিম অন্তর্ভুক্তি উৎসাহিত করা। সেই থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

এফএওর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে বিশ্বে ছয় কোটি ১৭ লাখ টন ডিম উৎপাদন হয়েছে। ২০১৮ সালে এ পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাত কোটি ৬৭ লাখ টন। এক দশকের ব্যবধানে ডিমের উৎপাদন প্রায় ২৪ শতাংশ বেড়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০০৯ সালে বাংলাদেশে ডিমের উৎপাদন ছিল ৫৭৪ কোটি ২৪ লাখ পিস। ২০১৯-২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ৭৩৬ কোটিতে। অর্থাৎ এক দশকে বাংলাদেশে ডিমের উৎপাদন তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে।