করোনার টিকা বাংলাদেশ বোতলজাতকরণের কার্যক্রম কিছুটা পিছিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি প্রথমে ছয় মাসের মধ্যে সরকারিভাবে টিকা বোতলজাতের কথা বললেও এখন বলছে এটা এক বছরের মধ্যে করতে। এ কাজে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পরিহারের উপায় খোঁজার জন্য মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি।

বুধবার শেখ সেলিমের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, আ ফ ম রুহুল হক, মুহিবুর রহমান মানিক, মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী, আব্দুল আজিজ, সৈয়দা জাকিয়া নুর, রাহগির আলমাহি এরশাদ ও আমিরুল আলম মিলন অংশ নেন।

গত জুন মাসে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ছয় মাসের মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানির মাধ্যমে দেশে করোনার টিকা উৎপাদনের সুপারিশ করে সংসদীয় কমিটি। অগাস্ট মাসে দুটি বৈঠক করে কমিটি। ওই বৈঠকে ছয় থেকে নয় মাসের মধ্যে টিকা বোতলজাত করার ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে এ বিষয়ে একটি পূর্ণ পরিকল্পনাও মন্ত্রণালয়ের কাছে চাওয়া হয়। বুধবার সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিষয়টি আবারও আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিম সাংবাদিকদের বলেন, 'এসেনশিয়াল ড্রাগসের গোপালগঞ্জ শাখায় জমি রয়েছে। সেখানে টিকা বোতলজাত করা যাবে। টিকা উৎপাদনের জন্য আরও জায়গা লাগবে, সেই জায়গা অধিগ্রহণ করে নেওয়া হবে। এক বছরের মধ্যে টিকা বোতলজাত শুরুর জন্য বলা হয়েছে।'

কমিটি প্রথমে ছয় মাস বললেও এখন এক বছরের মধ্যে বোতলজাতের সুপারিশ করেছে। টার্গেট পিছিয়ে দেওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে সাবেক এই স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, 'প্রথম যখন সুপারিশের পরে কয়েক মাস চলে গেছে। এখানে প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) করতে হবে। একজন পরামর্শক নিয়োগ দিতে হবে। কোন দেশ থেকে র মেটেরিয়াল আসবে সেসব ঠিক করতে হবে। যন্ত্রপাতি কোথা থেকে আসবে সেগুলো ঠিক করতে হবে। এগুলোর জন্য কিছু সময় লাগবে। সেজন্য এক বছর বলা হয়েছে। এই কাজে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পরিহারের উপায় খোঁজার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।'

এদিকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে টিকা উৎপাদন, ব্যবহার, পরিবহন ও সাশ্রয়ী দিক বিবেচনায় প্রোটিন ভ্যাকসিন উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। টিকার কাঁচামাল ও প্রযুক্তি আমদানির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি ডায়াডিকের সঙ্গে এসেনশিয়াল ড্রাগস তিনবার ভিডিও কনফারেন্স করেছে। ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের জন্য একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া রাশিয়ার স্পুটনিক-ভি ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আবিষ্কৃত প্রোটিন ভ্যাকসিন তৈরির আলোচনা চলছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, টিকা উৎপাদনের লক্ষ্যে যন্ত্রপাতি উৎপাদন ও সরবরাহকারী বিভিন্ন বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রাথমিকভাবে প্রাক্কলিত দর প্রস্তুত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে স্বল্প সময়ের মধ্যে স্টিলের অবকাঠামো নির্মাণ করে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপনের মাধ্যমে টিকা উৎপাদনের ইউনিট চালুর জন্য বিভিন্ন প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরামর্শ গ্রহণ করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী স্টিলের অবকাঠামো তৈরি করা হবে।

এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি শেখ সেলিম বলেন, স্টিলের অবকাঠামো তৈরি করলে সময়ও কম লাগবে। সেজন্য সংসদীয় কমিটিতে ওই সুপারিশ করা হয়েছিল।

গত ১৭ অগাস্ট সংসদীয় কমিটির বৈঠকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশে সরকারিভাবে করোনার টিকা উৎপাদনের সুপারিশ করা হয়। গত জুন মাসে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে সরকারিভাবে টিকা উৎপাদনের বিষয়ে আলোচনা হয়।

ওই বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব শেফিল্ডের গবেষক সানজান দাস স্বাস্থ্য সচিবের কাছে সরকারি পর্যায়ে টিকা উৎপাদনের লক্ষ্যে অবকাঠামো তৈরি করতে একটি প্রস্তাব পাঠান। সানজান দাসের টিকা তৈরির প্রযুক্তির আরএনডি ও প্রিক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হয়েছে বলে কার্যপত্রে বলা হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগসের বিদ্যমান কিছু অবকাঠামো এবং নতুন কিছু যন্ত্রপাতি কিনলে টিকা উৎপাদন সম্ভব বলে কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়। বিষয়টির কারিগরি দিক পর্যালোচনার ব্যাপারে মন্ত্রণালয় এখন বিবেচনা করছে।

বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে কোভিড-১৯ প্রতিরোধী টিকা উৎপাদন কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য দেশে কার্যকর ও নিরাপদ টিকা উৎপাদনে দ্রুতগতিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। কমিটি কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও জনগণকে সচেতন থাকা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে পরামর্শ দেয়।