টেনেটুনে এইচএসসি পাস সাইফুল ইসলাম টুটুল মেহেরপুরে গাংনীর কামন্দী গ্রামে বহু বছর মুদি দোকানদার ছিলেন। অল্প সময়ে অধিক টাকার মালিক হওয়ার লোভ জাগে তার। সেই স্বপ্ন পূরণে যোগ দেন মানব পাচারকারী চক্রের সঙ্গে। দালাল হিসেবে বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে লোক পাঠানোর কাজ করেন। একপর্যায়ে ঢাকাতেই নিজে তিনটি ওভারসিজ এজেন্সি খুলে বসেন। উচ্চ বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ভুয়া এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে মানব পাচার শুরু করেন। এজন্য গড়ে তোলেন বড় সিন্ডিকেট। র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তারের পর জানা যায় এই টুটুলের মাধ্যমে বিদেশ গিয়ে বহু মানুষ বিপদে রয়েছেন।

মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত র‌্যাব-৪-এর একটি দল রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে টুটুল ও তার সাত সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন- তৈয়ব আলী, শাহ্‌ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন লিমন, মারুফ হাসান, জাহাঙ্গীর আলম, লাল্টু ইসলাম, আলামিন হোসাইন এবং আবদুল্লাহ আল মামুন। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ১০টি পাসপোর্ট, সাতটি ফাইল, চারটি সিল, ১৭টি মোবাইল ফোন, পাঁচটি রেজিস্টার বই, মোবাইলের তিনটি সিম, ব্যাংকের চারটি চেক বই, দুটি কম্পিউটার ও ১০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে তাদের গ্রেপ্তারের তথ্য দেন কর্মকর্তারা। র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক মোজাম্মেল হক বলেন, চক্রের প্রধান টুটুল বাড্ডা এলাকায় টুটুল ওভারসিজ, লিমন ওভারসিজ ও লয়াল ওভারসিজ নামে তিনটি এজেন্সির মালিক। তার মাধ্যমে বহু নারী-পুরুষ বিদেশ গিয়ে বিপাকে পড়েছেন। তাদের অনেকের পরিবার র‌্যাবে অভিযোগ দিলে তারা গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় টুটুল ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয়। টুটুলের কাজে অন্যতম দালাল বা সহযোগী আবু তৈয়ব। সে এক সময়ে চায়ের দোকানদারি করত। টুটুলের সহযোগী হয়ে বহু লোককে প্রতারণামূলকভাবে বিদেশে পাঠানো ও দেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়েছে। অন্য ছয়জন টুটুলের বেতনভুক্ত কর্মচারী এবং মাঠ পর্যায়ের দালাল।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, টুটুলের চক্রটি বেকার ও অসচ্ছল তরুণ-তরুণীদের সৌদি আরব, জর্ডান ও লেবাননে ভালো বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে দুই থেকে পাঁচ লাখ টাকা করে আদায় করত। টাকা নিয়ে ঢাকায় তাদের নানা প্রশিক্ষণ দিয়ে বিশ্বাস স্থাপন করত। এরপর পাসপোর্ট করিয়ে ও ভুয়া স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে বিদেশে পাঠাত। ওই সব দেশের বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক চক্রের কাছে তাদের বিক্রি করে দেওয়া হতো। এরপর পাচার হওয়া ব্যক্তিদের প্রতি চলত নির্যাতন। দেশে পরিবারের সঙ্গেও তারা যোগাযোগ করতে পারত না। এক পর্যায়ে যোগাযোগের সুযোগ মিললেও দেশ থেকে টাকা পাঠিয়ে তাদের ফিরিয়ে আনতে হতো।

এই চক্রের ফাঁদে পড়েছেন গাইবান্ধার আসমা বেগম নামে এক নারী। টুটুল তাকে গত ৯ জুন জর্ডানে পাঠালে এক সপ্তাহ পর্যন্ত যোগাযোগ ছিল। এরপর তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন আসমার চাচা আশরাফুল ইসলাম।