কুড়িগ্রামের রাজারহাটে চাকিরপশার নদী সুরক্ষার জন্য সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। নদী থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ ও ইজারা বন্ধে মঙ্গলবার ১১ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও একজন জনপ্রতিনিধিকে বেলার পক্ষে আইনজীবী সাঈদ আহমেদ কবীর এ নোটিশ দেন।

ডাকযোগে পাঠানো নোটিশে ১৫ দিনের মধ্যে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, সেতুবিহীন আড়াআড়ি সড়কের স্থানে নদীকে বাধাহীনভাবে প্রবাহিত করা ও মৎস্যজীবীদের বাইরে অন্যদের দেওয়া ইজারা বাতিল করার কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে নোটিশে বিল শ্রেণিভুক্ত থেকে চাকিরপশারকে নদী শ্রেণিভুক্ত করার জন্যও পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

আড়াআড়ি সড়ক নির্মাণ ও অবৈধ দখলদারদের কারণে জলাবদ্ধতাসহ অন্যান্য ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে সেই ক্ষতি দোষী ব্যক্তিদের কাছ থেকে আদায় করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বিতরণ করার জন্য ১৫ দিনের মধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথাও বলা হয়েছে নোটিশে। নোটিশপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা লিখিত জানাতেও বলা হয়েছে। অন্যথায় পরিবেশ আইনবিদ সমিতি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক, ভূমি জরিপ ও রেকর্ড অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর রংপুরের পরিচালক, কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক, কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার ও রাজাহাটের সহকারী ভূমি কমিশনারকে এ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাজারহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকেও একই নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

গতবছরের ২০ ডিসেম্বর সমকালের প্রথম পাতায় ‘নদীতে নেতাদের পুকুর’ শিরোনামে দখল দৌরাত্ম্যে মরে যাওয়া চাকিরপশার নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

চাকিরপশার নদী উদ্ধারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনের পাশাপাশি ভুক্তভোগী এলাকাবাসী আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছে। চাকিরপশার নদী সুরক্ষা কমিটির সমন্বয়ক ড. তুহিন ওয়াদুদ সমকালকে বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালীরা জবরদখল করে নদীটিকে অস্তিত্ব সংকটে ফেলে দিয়েছেন। প্রথমে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনে স্মারকলিপি দেওয়া হয়, এরপর জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের কাছেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়। কিন্তু প্রায় ১২২ জন দখলদারের বিরুদ্ধে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে আন্দোলনের পরও নদী রক্ষার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। এখন পর্যন্ত দখলদারদের উচ্ছেদও করা হয়নি। বেলার আইনি নোটিশ কার্যকর হলে পরিবেশ, প্রকৃতি ও প্রতিবেশ রক্ষা পাবে বলে আশা তার।