বেশ কিছুদিন ধরে মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দাম। বাজারে কোনো সপ্তাহে একটির দাম বাড়ল তো পরের সপ্তাহে আরেকটি। নিত্যপণ্যের দামের অস্থিরতা ভোক্তাদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে ব্যবসায়ী এবং সংশ্নিষ্ট সংস্থাগুলোকে নিয়ে বৈঠক করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাজার মনিটরিংসহ নানা পদক্ষেপের কথা বলা হলেও বাজারে এখনও উত্তাপ কমেনি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ব্রয়লার মুরগি, তেল, চিনি, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, ডাল, চাল, আটাসহ বেশিরভাগ পণ্যের বেড়ে যাওয়া দাম আগের মতোই। তবে কিছুটা কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরের দেশি পেঁয়াজ বেড়ে গত সপ্তাহে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় ওঠে। এ সপ্তাহে ৮ থেকে ৯ টাকা কমে এখন ৬৬ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, ভারতীয় পেঁয়াজের দর ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। কারওয়ান বাজারের পেঁয়াজের একজন আড়তদার সমকালকে বলেন, আগের চেয়ে দেশি পেঁয়াজ বেশি আসছে বাজারে। ফলে দাম কমতির দিকে।

নতুন করে দাম বাড়ার তালিকায় যুক্ত হয়েছে মসলা জাতীয় পণ্য আদা-রসুন। টিসিবির তথ্য বলছে, এক মাসের ব্যবধানে ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ বেড়েছে আদার দাম। ১০০ থেকে ১৪০ টাকার দেশি আদার দাম এখন ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা। এ ছাড়া ২০ টাকা বেড়ে দেশি রসুন ৬০ থেকে ৭০ এবং আমদানি করা রসুন ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

স্বল্প আয়ের মানুষরা মূলত আমিষের চাহিদা পূরণ করে ব্রয়লার মুরগি দিয়ে। কিন্তু খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এক মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে এখন এর দাম গিয়ে ঠেকছে ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকায়। পাকিস্তানি ও সোনালি মুরগিরও দাম বাড়তি। বিক্রেতারা এই দুই জাতের প্রতি কেজির দাম নিচ্ছেন ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা। বেড়ে যাওয়া ডিমের দামও কমেনি। ফার্মের প্রতি ডজন ডিম ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের মা রোকেয়া চিকেন ব্রয়লার হাউসের একজন বিক্রয়কর্মী সমকালকে বলেন, খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে। খামারিরা দাম না কমালে খুচরা বাজারে কমার সম্ভাবনা নেই বলে জানান তিনি।

আগে থেকে বেড়ে যাওয়া চিনি, সয়াবিন তেল ও মসুর ডালের দাম কমেনি এখনও। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় কয়েক মাস ধরেই ছুটছে সয়াবিন তেলের দাম। বোতলজাত এবং খোলা দুই ধরনের সয়াবিন তেলের লিটার এখন ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা। পাম অয়েলের দামও ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা। আরেক দফা দাম বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীরা।

সরকার ৭৫ টাকা প্রতি কেজি খোলা চিনির দাম বেঁধে দিলেও বিক্রেতারা দাম রাখছেন ৮০ টাকার বেশি। প্যাকেটজাত চিনির দামও ৮৫ থেকে ৮৭ টাকা। কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি মসুর ডালের দামে। আমদানি করা মসুর ডাল ৮৫ থেকে ৯০ এবং দেশি মসুর ডাল ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গরিবের মোটা চালের দামে স্বস্তি নেই আগে থেকেই। সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকা স্বর্ণা ও বিআর-২৮ জাতীয় চালের দাম ২ থেকে ৩ টাকা বেড়ে ৫০ থেকে ৫৩, মিনিকেট ৬২ থেকে ৬৫ টাকা এবং নাজিরশাইলের দাম ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শীতের কিছু সবজি বাজারে এলেও দাম চড়া। বিক্রেতারা ছোট আকারের প্রতি পিস ফুলকপির দাম হাঁকছেন ৫০ থেকে ৬০ টাকা। এ ছাড়া শিম ৬০ থেকে ৭০ টাকা, টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা। তবে অন্যান্য সবজি মিলবে ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে।

নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম নিয়ে ক্ষোভ দেখা গেছে ক্রেতাদের মধ্যে। কারওয়ান বাজারে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শাহ আলম সমকালকে বলেন, টিউশনির আয় দিয়ে ঢাকায় মেসে থাকতে হয় তাকে। কিন্তু জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় তার আয়ের থেকে ব্যয় বেড়ে গেছে। এতে চরম দুশ্চিন্তা পড়েছেন। ফলে চাহিদা থাকলেও আগের তুলনায় এখন পরিমাণে কম কিনতে হয়।