স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি আর ননদের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে নিজের গায়ে আগুন দেন অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী গৃহবধূ সুরাইয়া নেওয়াজ লাবণ্য। ৯০ ভাগ পোড়া শরীর নিয়ে লাবণ্য ভর্তি ছিলেন ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে মৃত কন্যা সন্তানের জন্ম দেন তিনি। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কিশোরী মা নিজেও চলে যান পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে। হাসপাতালের আইসিইউতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মৃত্যু হয় তার। গত ৯ অক্টোবর মেয়েটি কেরোসিন ঢেলে নিজের গায়ে আগুন দেন।

লাবণ্যর বাবা আরিফুল ইসলাম জানান, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন লাবণ্য সকালে মৃত সন্তান জন্ম দেন। এরপর তার অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। দুপুর ১২টার দিকে মৃত সন্তানকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। লাবণ্যর সন্তান গর্ভে থাকতে খুব ব্যথা পেয়েছেন বলে মনে হচ্ছে। মেয়ে-মা কেউ বাঁচল না। তিনি জানান, লাবণ্যর শ্বশুরবাড়ি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায়। তার স্বামীর নাম শেখ সাদী হোসাইন।

মেয়েটির স্বজনরা জানান, লাবণ্যর বাবা-মায়ের বিয়ে বিচ্ছেদ হওয়ায় সে বড় হয় দাদি ও নানির কাছে। তারাই তাকে বিয়ে দেন হোসাইনের সঙ্গে। কিন্তু শ্বশুরবাড়িতে সুখি ছিলেন না তিনি। তার স্বামী তাকে প্রায়ই বলত, দাদির কাছ থেকে টাকা আনতে। টাকা-পয়সা দিয়ে ব্যবসা দাঁড় করিয়ে দিতে। তার শ্বশুর-শাশুড়ি ও ননদও নানাভাবে চাপ দিতেন। মারধরও করা হতো তাকে। ১৬ মাসের সংসারে কয়েকবার পারিবারিকভাবে সালিশ হয়েছে, কিন্তু মীমাংসা হয়নি।

লাবণ্যর মা আফরোজা ফাতেমা জানান, তার মেয়ের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন করত শ্বশুরবাড়ির লোকজন। কয়েক দিন আগে তার বাবা শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে এনে নেত্রকোনার কলমাকান্দার গাখাজোড়া গ্রামে দাদির কাছে রেখে এসেছিলেন। ৯ অক্টোবর হোসাইনের সঙ্গে ফোনে কথা হয় লাবণ্যর। কথা কাটাকাটি করে ফোন রাখার পরই কেরোসিন ঢেলে নিজের গায়ে আগুন দেন লাবণ্য। ওই দিন তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন আনা হয় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। লাবণ্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, তাকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন ঠিকমতো খেতেও দিত না।