বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘সরকার কাঁচের ঘরে বসে লম্বা লম্বা কথা বলছে আর বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার করছে। যারা লম্বা লম্বা কথা বলে তাদের চিনতে গেলে সার্চ লাইট দিয়ে খুঁজতে হয় -এরা কারা?’ শনিবার নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। 

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে সরকারের কিছু মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেন মির্জা আব্বাস।  

কুমিল্লার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আজকে দেশে বিশাল পুলিশ বাহিনী। বিএনপির সময় ছিল ৫০ হাজার পুলিশ। আর এখন ৫ লাখ পুলিশ। কাকে পেটানোর জন্য? যদি ডাকাত ধরা না যায়, যদি ব্যাংক লুটেরাদের, চোর, খুনি ধরা না যায় তাহলে এই পুলিশের কাজ কি? বিএনপি ঠেকানো? এটা বোধ হয় বেশিদিন চলবে না। কারণ সমস্ত কিছুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ একটা আছে। প্রতিরোধ ব্যবস্থা কিন্তু নিজ থেকে গড়ে উঠে, গড়াতে হয় না।’

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিএনপি,যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হয়রানির মাধ্যমে জেলখানায় ভরে ফেলেছেন। কোট কাচারিতে আমাদের লোক ছাড়া কাউকে দেখা যায় না। দেশে কোনো বিচারব্যবস্থা নাই। আছে শুধু পুলিশ, আছে শুধু কোর্ট। এটা দিয়ে আপনারা টিকে আছেন।’ বর্তমান অবস্থা থেকে বেরিয়ে সরকার হটাতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান মির্জা আব্বাস।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার প্রসঙ্গ টেনে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘চিকিৎসকরা বলেছেন খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা দরকার। কিন্তু তাকে উন্নতমানের চিকিৎসা এই সরকার দেবে না।’ 

উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক গাজী রেজওয়ানুল হোসেন রিয়াজের সঞ্চালনায় দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসীন আলী, দক্ষিণের সভপতি এসএম জিলানী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।