'বাংলাদেশের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং পাকিস্তানি গণহত্যাকারীদের বিচার' শীর্ষক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে বিশিষ্টজন বলেছেন, বাংলাদেশে গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখন জাতীয় দাবি। এজন্য সরকারকে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি শনিবার এই ওয়েবিনারের আয়োজন করে। সংগঠনের সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক। বক্তৃতা করেন মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী দক্ষিণ এশীয় গণসম্মিলনের সভাপতি বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল, প্রজন্ম '৭১-এর সভাপতি শহীদ সন্তান আসিফ মুনীর তন্ময়, তরুণকান্তি চৌধুরী, খলিলুর রহমান, ডা. একরাম চৌধুরী, সৈয়দ এনামুল ইসলাম, আনার চৌধুরী, সাংবাদিক আবু সালেহ রনি, আরাফাত মুন্না, মিল্টন আনোয়ার ও ঝর্ণা মনি।

মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক বলেন, বাংলাদেশের দূতাবাসগুলো একাত্তরের গণহত্যার নৃশংসতা, ভয়াবহতা বহির্বিশ্বের কাছে তুলে ধরার কাজে সর্বদা নিয়োজিত রয়েছে। তারপরেও সরকারের ক্রটি বিচ্যুতি ও ভুল-ভ্রান্তি আছে। এটা তুলে ধরার ক্ষেত্রে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি তার ভুমিকা সাফল্যের সঙ্গে পালন করছে। তিনি আরও বলেন, যে জাতি তার ইতিহাসকে লালন করে না সে জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। সুতরাং চার মুলনীতি বাঙালি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতার একটি থেকেও বিচ্যুত হলে জাতি ঘুরে দাঁড়াতে পারব না। তিনি বাংলাদেশের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এখন জাতীয় দাবি বলে মন্তব্য করেন।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, দীর্ঘ দিনের দাবির কারণে সরকার ২৫ মার্চকে জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের নিলেও বাংলাদেশের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, যা গণহত্যাকারীদের বিচারের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এখনও কেন পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধী এবং গণহত্যাকারী অন্যান্য সংগঠনের বিচার হচ্ছে না তা বোধগম্য নয়। তিনি অবিলম্বে গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং পাকিস্তানি গণহত্যাকারীদের বিচার শুরু করার দাবি জানান।

বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ভারত এবং অন্যান্য বন্ধু রাস্ট্রের সহায়তার উপর ভিত্তি করে এগিয়ে গেলে গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার পথ খুলে যাবে। সেই সঙ্গে গণহত্যায় অংশগ্রহণকারী পাকিস্তানি সেনা সদস্যদের বিচারের বিষয়ে বাংলাদেশের পররাস্ট্র মন্ত্রণালয়কে এমন ভুমিকা রাখতে হবে, যাতে পাকিস্তানের উপর বিভিন্ন দেশ চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, গণহত্যার মুল হোতা পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়নি এখনও। এদের যদি শাস্তি না হয় তাহলে শহীদ পরিবারগুলোর মনে চিরকাল অশান্তি বিরাজ করবে। তা ছাড়া বিশ্ব শান্তির প্রেক্ষাপটেও এটি চরম অন্যায়। এ কারণেই পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং বাংলাদেশের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রয়োজন।

আসিফ মুনীর তন্ময় বলেন, গণগত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় এবং পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি জোরালো করতে হবে। এ জন্য প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে।

তরুণকান্তি চৌধুরী বলেন, গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলে পাকিস্তানী গণহত্যাকারীদের বিচার করা সহজ হবে।

খলিলুর রহমান বলেন, ক্ষমতায় এখন মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকার। তাই গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং পাকিস্তানি গণহত্যাকারীদের বিচারের জন্য উচ্চকন্ঠে সোচ্চার হওয়ার এখনই প্রকৃত সময়।

ডা. একরাম চৌধুরী গণহত্যার বিচারের দাবি জোরালো করার আহবান জানান। সৈয়দ এনামুল ইসলাম বলেন, বিচারের জন্য যুদ্ধাপরাধীদের বাংলাদেশের হাতে তুলে না দিলে পাকিস্তানের সঙ্গে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। আনার চৌধুরী বলেন, গণহত্যাকারীদের বিচার এবং গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অনিবার্য।

আবু সালেহ রনি বলেন, গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় করা সম্ভব হলে পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ত্বরান্বিত হবে।