চট্টগ্রাম চীফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের নাম, জাল সাক্ষর ও সীল ব্যবহার করে ভুয়া ওয়ারেন্ট তৈরির ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। রোববার চট্টগ্রাম সিএমএম আদালতের নাজির মো. আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করে তদন্ত শুরু করেছেন।

মামলার বাদী আবুল কালাম আজাদ সমকালকে বলেন, সিএমএম আদালতের নির্দেশে অজ্ঞাত পরিচয় আসামির বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছি। সিএমএম আদালতের নাম, জাল সাক্ষর ও সীল ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন থানায় ভুয়া ওয়ারেন্ট পাঠিয়ে মানুষকে হয়রানি করে অপরাধীরা। তাদের শনাক্ত করে আইনের আওয়তায় আনার জন্যই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

সর্বশেষ গত ১২ অক্টোবর ভুয়া পরোয়ানায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি থানার করগাঁও লামার বাদীর বিল্লালের ছেলে সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে যে পরোয়ানা ইস্যু করা হয়েছে তাতে চট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও বিচারক হিসেবে রেজাউল করিম চৌধুরীর নাম ব্যবহার করে ভুয়া সীল ও সাক্ষর রয়েছে। ভুয়া পরোয়ানায় সিআর ৭৯৭/২০১৬ মামলা নম্বর উল্লেখ রয়েছে। এটিও ভুয়া। কটিয়াদি মডেল থানা পুলিশ সাইফুল ইসলামকে ১১ অক্টোবর গ্রেপ্তার করে কিশোরগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুলকে জেলহাজতে পাঠায়।

এ বিষয়ে একটি উপনথি চট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসার পর আদালতের কজলিস্ট, কোর্ট ডায়েরি, প্রসেস রেজিস্টার, পরোয়ানা রেজিস্টার ও পিয়ন বই যাচাই-বাচাই করে দেখা যায়, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে রেজাউল করিম চৌধুরী নামীয় কোন ব্যক্তি চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, চট্টগ্রাম হিসেবে কখনো কর্মরতই ছিলেন না, বর্তমানেও নেই। পরোয়ানাটি এ আদালত হতে পাঠানো হয়নি। এটি জাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। কোন চক্র এটি মানুষকে হয়রানি করতে তৈরি করেছে।

নাজির আবুল কালাম আজাদ জানান, কোন সক্রিয় চক্র বা কোন ব্যক্তি এ অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তা খুঁজে বের করে তাদের আইনের আওতায় আনতেই মামলাটি করা হয়। এর আগেও গত কয়েক বছরে বেশ কিছু ভুয়া ওয়ারেন্টে মানুষকে হয়রানির ঘটনা ঘটে। তাই এবার সরাসরি মামলা করেছে আদালত।