কুমিল্লার নানুয়ারদীঘিরপাড়ের মন্দিরে পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনায় গ্রেপ্তার ইকবাল হোসেন এই মন্দির ছাড়াও আরও একটি মন্দিরে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন।

পুলিশের একটি সূত্র এতথ্য নিশ্চিত করেছে।

ঘটনার আট দিন পর বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে কক্সবাজারের সুগন্ধা সৈকত এলাকা থেকে ইকবালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্নেষণ করে পুলিশ বলছে, নানুয়ারদীঘিরপাড়ের পূজামণ্ডপের ৫০০ গজ দূরের দারোগাবাড়ি মাজারসংলগ্ন মসজিদ থেকে কোরআন নিয়ে মন্দিরে ঢোকেন ইকবাল হোসেন।

স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ ঘটনায় ইকবাল 'ঘুঁটি' হিসেবে ব্যবহার হয়েছে।

তদন্ত সূত্র বলছে, নানুয়ারদীঘিরপাড়ের পূজামণ্ডপে শুরুতে ঢুকতে ব্যর্থ হয়েছিলেন ইকবাল হোসেন। পূজামণ্ডপটিতে শুরুতে ইকবাল লোকজন দেখে মিশন সফল না করে ফিরে আসেন।

এরপর তিনি গিয়েছিলেন ওই মণ্ডপের অদূরে দিগম্বরীতলার গুপ্ত জগন্নাথ মন্দিরে। সেখানে গেটের তালা ভাঙতে ব্যর্থ হন ইকবাল। এরপর আবার ফিরে আসেন নানুয়ারদীঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে। সেখানে ওই সময় লোকজন না থাকার সুযোগ নিয়ে তিনি কোরআন শরিফ রেখে যান।

গ্রেপ্তার ইকবাল কুমিল্লা নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সুজানগরসংলগ্ন দ্বিতীয় মুরাদপুর লস্কর পুকুরপাড় এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা নুর আহমেদ আলম পেশায় মাছ ব্যবসায়ী। তিন ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে ইকবাল বড়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে জানান, নেশার টাকার জন্য পরিবারের সদস্যদের ওপর প্রায়ই মারমুখী হতেন ইকবাল। তিনি কখনও বাসচালকের সহকারী, কখনও রংমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন।

ইকবাল প্রথম বিয়ে করেছেন বরুড়ায়। আয়েশা বেগম নামের সেই নারীর সঙ্গে পাঁচ বছর আগে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। সেই সংসারে তার এক ছেলে রয়েছে। দ্বিতীয় বিয়ে করেন চৌদ্দগ্রামের কাদৈ গ্রামের রুমি আক্তারকে। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীও তাকে ছেড়ে গেছেন। আদালতে মামলাও করেছেন। সেই সংসারে তার একটি মেয়ে আছে।