ব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের টাকা তোলা ব্যক্তিদের টার্গেট করে ডাকাত দলটির সদস্যরা। এরপর তাকে অনুসরণ শুরু করে। পথে সুবিধাজনক স্থানে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তাকে নিজেদের গাড়িতে তুলে নেয়। শেষ ধাপে মারধর করে কেড়ে নেওয়া হয় টাকা। এমনই একটি চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো- আবদুল্লাহ আল মামুন, ইমদাদুল শরীফ, খোকন মিয়া, মাসুদুর রহমান তুহিন, মামুন সিকদার, কামাল হোসেন, ওয়াহিদুল ইসলাম, ফারুক বেপারী ও মতিউর রহমান।

মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিল ও মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবির গুলশান বিভাগ। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি ওয়াকিটকি, একটি ডামি পিস্তল, এক জোড়া হাতকড়া, একটি ট্রাভেল ব্যাগ, ডিবি পুলিশের দু'টি জ্যাকেট, চারটি নতুন গামছা, একটি প্রাইভেটকার, একটি মাইক্রোবাস ও পাঁচ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

এ ব্যাপারে জানাতে বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে ডিবি উত্তরের (সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম) যুগ্ম-কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, করোনার সংক্রমণ কমে যাওয়ায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। এই সুযোগে কয়েকটি ডাকাত দল রাজধানী ও আশেপাশের এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয়ে অপরাধ করে আসছে বলে তথ্য পাওয়া যায়।

তিনি জানান, ওইসব চক্র র‌্যাব ও ডিবি পরিচয়ে টাকা জমা দেওয়ার উদ্দেশে ব্যাংকে যাওয়া বা টাকা তুলে ফেরা ব্যক্তিদের জোর করে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। এরপর সাভার-আশুলিয়া, বেড়িবাঁধ বা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নিয়ে ব্যাপক মারধর করে নানারকম ভয় দেখিয়ে টাকা কেড়ে নেয়। অনেক সময় ভুক্তভোগীদের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে টাকা তুলে নেয়।

ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে কেউ সঙ্গে যেতে বললে আগে যাচাই করবেন। এ ধরনের ঘটনার শিকার হলে কাছের থানা বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করে জানাবেন।