জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে সাংবাদিকদের উদ্বুদ্ধকরণে বজলুর রহমান স্মৃতিপদক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বজলুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাংবাদিকতার জন্য বজলুর রহমান স্মৃতিপদক প্রদান অত্যন্ত সময়োপযোগী। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাংবাদিকতায় যারা কাজ করছেন, তারা জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

রোববার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উদ্যোগে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত 'বজলুর রহমান স্মৃতিপদক-২০২০ প্রদান' অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে স্পিকার এসব কথা বলেন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাংবাদিকতার জন্য মো. মামুন চৌধুরী, রাজন ভট্টাচার্য ও শাহনাজ শারমিনের নেতৃত্বে নাগরিক টিভি টিমকে 'বজলুর রহমান স্মৃতিপদক-২০২০' প্রদান করা হয়।

স্পিকার বলেন, সাংবাদিক বজলুর রহমান দেশপ্রেমিক, মুক্তিযোদ্ধা, নিরহংকার মানুষ ছিলেন। তিনি অজ্ঞতা, অন্যায় ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে গেছেন। সুস্থ ও সচেতন সমাজ বিনির্মাণে সাংবাদিকতাকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তিনি তা শিক্ষা দিয়ে গেছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে তিনি ছিলেন সদা সোচ্চার। তার জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চর্চা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন কিন্তু দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের কথা বলে গেছেন। বর্তমান সরকার সব সময় দায়িত্বশীল ও জনকল্যাণকর সাংবাদিকতার পক্ষে। সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এখন স্বাধীনভাবে কাজ করছে। বস্তুনিষ্ঠ সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে গণমাধ্যম গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে তোলে। গণমাধ্যম মানুষকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় সাহায্য করে। তাই গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি দায়িত্বশীলতার বিষয়ও বিবেচনা করতে হবে।

ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলী স্বাগত বক্তব্য দেন। জুরি বোর্ডের সদস্য নওয়াজেশ আলী খান ও রোবায়েত ফেরদৌস এতে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।