ঢাকা মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪

নামেই ডিজিটাল কাজে অ্যানালগ

নামেই ডিজিটাল কাজে অ্যানালগ

.

 অমরেশ রায়

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২২:৩৫

ডিজিটাল বাংলাদেশের পর সরকারের প্রতিশ্রুতি ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তোলা। তবে উল্টো পথে হাঁটছে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)। অসাধু  কর্মকর্তাদের অদৃশ্য সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি ডিজিটাল সেবা নিতে আসা বিদেশ গমনেচ্ছুরা। এ বিষয়ে বিএমইটি এবং প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও জটিলতার নিরসন হয়নি। ফলে ওই সিন্ডিকেটের কাছে অসহায় প্রতিদিনের অসংখ্য সেবাগ্রহীতা। 

বিএমইটিকে ঘিরে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, দালালদের দৌরাত্ম্য এবং সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ অনেক দিনের। এ অবস্থায় প্রবাসী খাতকে হয়রানি ও দালালমুক্ত করার লক্ষ্যে ডিজিটাল সার্ভিস চালু করেছিল কর্তৃপক্ষ। উদ্বোধনের পর থেকে গত দুই বছরে অনলাইন মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিল। বিদেশে যাওয়ার সরকারি পদক্ষেপগুলো সম্পন্ন করার জন্য সময় এবং অর্থ– এ দুইয়েরই সাশ্রয় হচ্ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ডিজিটাল সেবা পেতে ধীরগতির কারণে এর প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে অনলাইন ক্লিয়ারেন্স সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সার্টিফিকেট জালিয়াতি ঠেকানো মুশকিল হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।  

অনলাইন সেবার ধীরগতির কারণে অনেক সেবাগ্রহীতাই এখন বাধ্য হয়ে সেই সিন্ডিকেট পরিচালিত দালালদের মাধ্যমে ম্যানুয়ালের দিকেই ফিরে যাচ্ছেন। কর্মকর্তাদের ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে প্রসেসিং সিস্টেমে বেশি মনোযোগ থাকায় অনলাইনে আসা ফাইলগুলো আটকে থাকছে ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত। আর ম্যানুয়ালি আসা ফাইলগুলো সঙ্গে সঙ্গেই অনুমোদন পাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ‘স্পিড মানি’ হিসেবে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। তবে বিএমইটি কর্তৃপক্ষ বলছে, অনলাইন বা ম্যানুয়ালি সর্বোচ্চ এক দিনের বেশি সময় নেওয়া হয় না।
ভুক্তভোগী কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, গত ১৪ আগস্ট তিন বিদেশগামীর ফাইল অনলাইনে জমা দেওয়া হয়েছিল। সেই ফাইল অনুমোদন হয়েছে ২০ দিন পর ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে। এভাবে গত এক মাসের একটি হিসাবে দেখা যায়, অনলাইনে আসা প্রতিটি ফাইল অনুমোদনে গড়ে ১৬ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত সময় লেগেছে। অনেকের ক্লিয়ারেন্স পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২৪ দিনও।

অন্যদিকে, জাহিদ হাসান নামের এক ব্যক্তি ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে একটি ফাইল জমা দিয়েছিলেন ১২ সেপ্টেম্বর দুপুরে। সেদিন বিকেলের মধ্যেই তাঁর ছাড়পত্র মিলেছে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আরভি ওভারসিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে বলেন, ‘ইউরোপের একটি দেশে যাওয়ার জন্য ২০ দিন আগে কয়েকজন যাত্রীর ক্লিয়ারেন্সের জন্য আবেদন করেছিলাম। ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ায় বিশেষ ব্যবস্থায় শেষ মুহূর্তে ফ্লাইটের দিন মাত্র ছয় ঘণ্টা  আগে ক্লিয়ারেন্স পাই। সে ক্ষেত্রে  যাত্রীপ্রতি গুনতে হয়েছে অতিরিক্ত ২৫ হাজার টাকা করে।’
দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন লাইসেন্স ভাড়া নিয়ে রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে যুক্ত থাকা কামাল হোসেন বলেন, বিএমইটির অসাধু কর্মকর্তারাই এসব সিন্ডিকেটের মূল হোতা। তারা নিজেরাই কিছু লোক দিয়ে এসব করে আসছেন। তাদের সঙ্গে কিছু রিক্রুটিং এজেন্সিও জড়িত।

বিএমইটির বহির্গমন শাখার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, আসলে অনলাইন ছাড়পত্রে বাড়তি আয় নেই। আর ম্যানুয়ালি প্রতিটি ফাইল থেকে আড়াই থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। এ কারণেই সবার ঝোঁক থাকে এজেন্সিগুলো সরাসরি ফাইল পুটআপ দিক।

বিএমইটির নতুন মহাপরিচালক সালেহ আহমদ মোজাফ্ফরকে একাধিকবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি। বিএমইটির সাবেক মহাপরিচালক শহিদুল আলম বলেন, আমার অন্যত্র পোস্টিং হয়েছে। তাই এসব নিয়ে কথা বলা ঠিক হবে না। তবে মন্ত্রণালয় চাইলে নতুন কিছু পদক্ষেপের মাধ্যমে এই সিন্ডিকেট বন্ধ করতে পারে। 
বহির্গমন শাখার পরিচালক আব্দুল হাই বলেন, আমার টেবিলে যেসব ফাইল আসে, সেসব আমি সঙ্গে সঙ্গেই স্বাক্ষর করে পাঠাই। সর্বোচ্চ এক দিনের মধ্যেই ক্লিয়ারেন্স দিয়ে দিই। তবে অন্য বিভাগে হয়তো বিলম্ব হয়, সেটার দায় আমার নয়।

আরও পড়ুন

×