সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিদের নিয়ে মিথ্যাচার, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে শাহ মাহমুদ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

সোমবার মধ্যরাতে র‌্যাব-১ এর একটি দল রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকার একটি বাসায় এই অভিযান চালায়। গ্রেপ্তার বক্তি যুক্তরাজ্য বিএনপির সহকারী প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুল ইসলামের ছোট ভাই।

র‌্যাব বলছে, একটি চক্র দেশে ও বিদেশে অবস্থান করে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচারে যুক্ত রয়েছে। এই চক্রের বেশ কয়েকজন সদস্য বিদেশে অবস্থান করে ভার্চুয়াল জগতে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিদেশে অবস্থানকারী সদস্যরা দেশীয় এজেন্টদের সঙ্গে যোগশাজস করে এমন অপকর্ম করছে। গ্রেপ্তার মাহমুদ ওই চক্রের দেশীয় এজেন্ট হিসেবে কাজ করছিলেন।

র‌্যাব-১ এর সহকারী পরিচালক নোমান আহমদ জানান, তাদের একটি দল সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ এলাকার গোয়ালটেক প্রাইমারি স্কুল রোডের বাসায় অভিযান চালিয়ে মাহমুদকে গ্রেপ্তার করে। ওই ব্যক্তি রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার ছাড়াও দেশের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করে অপপ্রচার চালাতেন। তার কাছ থেকে অপপ্রচারে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ মোট চারটি মোবাইল ফোন এবং দুই লাখ টাকা মূল্যের জাল মুদ্রা জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার মাহমুদকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, মাহমুদ রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রকারী চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য। ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাষ্ট্র, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্পর্কে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য ছড়াতেন। এ ছাড়া বিভিন্ন উস্কানিমূলক তথ্য প্রচারের মাধ্যমে দেশের শান্তি শৃঙ্খলা বিনষ্টের অপচেষ্টায় ছিলেন। এই চক্রের বিদেশে অবস্থানকারীদের মধ্যে মাহমুদের ভাই মঈনুল ইসলাম যুক্তরাজ্য বিএনপির সহকারী প্রচার সম্পাদক ছাড়াও লন্ডন বিএনপির প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

র‌্যাবের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লন্ডনে অবস্থানকারী মঈনুল যুক্তরাজ্য থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা, তার পরিবার এবং সরকারবিরোধী নানা অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। ফলে র‌্যাব সাইবার পেট্রোলিং করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার এই ধরনের অপপ্রচার এবং দেশে অবস্থানকারী নিকট আত্মীয়দের গতিবিধি পর্যক্ষেণ শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মাহমুদকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।