ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় নির্বাচন কমিশন 'বিব্রত ও উদ্বিগ্ন' বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। তিনি বলেছেন, এসব বন্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয় ভূমিকা থাকা দরকার। তারা আরও একটু সক্রিয় হলে সহিংসতা কমবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওর নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ কথা বলেন। এর আগে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইসি কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন কমিশনের সদস্যরা। রুদ্ধদ্বার ওই বৈঠকে সিইসি, তিনজন কমিশনার, ইসি কার্যালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালকসহ নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা অংশ নেন। আলোচিত কমিশনার মাহবুব তালুকদার বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে সিইসি বলেন, নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে। কমিশন সেটা প্রত্যক্ষ করছে। নির্বাচনের ব্যাপারে মাঠপর্যায়ে কী ধরনের নির্দেশনা দেওয়া দরকার তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। ৪ নভেম্বরের বৈঠকে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে।

কে এম নূরুল হুদা বলেন, অনেকগুলো ঘটনা ঘটে গেছে। যা নিয়ে কমিশন বিব্রত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কমিশনে আলোচনা করে মাঠপর্যায়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।

সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা ইতিবাচক নয় বলে মন্তব্য করেন সিইসি। তবে পরিস্থিতি ইসির নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইসির যথাযথ নিয়ন্ত্রণ আছে। নির্বাচনের যারা অংশ নেয়- যেমন রাজনৈতিক দল, ভোটার ও প্রার্থীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্বাচন সুষ্ঠু হয়। সুতরাং ইসি যতই যা করুক, মাঠপর্যায়ে সহনশীলতা না থাকলে এ নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

রাজনৈতিক দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, 'দুঃখজনকভাবে সত্য যে, আমরা খুব পজিটিভ দেখছি না। এসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয় ভূমিকা থাকা দরকার। নির্বাচনের বিষয়টি শুধু নির্বাচন কমিশনের নয়, এটা সকলেরই। আমরা শুধু নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় থাকি। তারা (রাজনৈতিক দল) আরও একটু সক্রিয় হলে সহিংসতা কমবে।'

আইন প্রয়োগে শিথিলতায় সহিংসতা বেড়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে নূরুল হুদা বলেন, 'অভিযোগ পেলে ইসি থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অন দ্য স্পট যতগুলো ফৌজদারি ঘটনা ঘটে, সেগুলোর বিষয়ে প্রস্তুতি থাকে না। হঠাৎ করে ক্রিমিনাল অফেন্স ঘটে যায়। তখনই আমরা ব্যবস্থা নিই। এসব ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত হয় না এবং হঠাৎ করে ঘটে যায়। যে কারণে প্রশাসন আগ থেকে তা জানতে পারে না। ফৌজদারি যেসব ঘটনা ঘটে সেগুলো সেই ফৌজদারি আইনে নির্ধারিত হবে। এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া আছে।'

শরীয়তপুরের চিতলিয়া ইউনিয়নের পরিষদে জাল স্বাক্ষরে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়ে ইসির পদক্ষেপের বিষয়ে সিইসি বলেন, এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় কমিশনের আরেক সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে পুলিশ, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা। তাদের ইসি থেকে বার্তা দেওয়া হবে। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে এর দায় তাদের ওপরও বর্তাবে। তাদেরও জবাবদিহিতার অধীনে আনা হবে।

আগামী বৃহস্পতিবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করবে ইসি।