করোনাকালে স্বাস্থ্যসেবা পেতে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন প্রতিবন্ধীরা। কোনো রকমে যারা চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, তারাও প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষভাবে দক্ষ চিকিৎসক এবং নার্সের সেবা পাননি। এসব কারণে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সাধারণ রোগীদের তুলনায় ৮০ শতাংশ প্রতিবন্ধীকে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। প্রতিবন্ধীদের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা এবং আয়ের দিকে অনগ্রসর শ্রেণি বেশি সংকটে পড়েছে।

উন্নয়ন গবেষণা সংক্রান্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের এক গবেষণা জরিপে এ তথ্য ওঠে এসেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিবন্ধী মানুষ দেড় কোটি, যা মোট জনসংখ্যার ৯ দশমিক ২ শতাংশ।

বুধবার এক সেমিনারে এ জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন বিআইডিএসের সিনিয়র ফেলো ড. আনোয়ারা বেগম। সেমিনারে এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি। করোনাকালে প্রতিবন্ধী মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সুবিধাপ্রাপ্তি বৈষম্য ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে ধারণা পেতে জরিপটি পরিচালনা করা হয়। করোনা মোকাবিলায় সম্মুখসারিতে থাকা হাসপাতালগুলোতে কর্মরত নার্স ও ৬৫ জন প্রতিবন্ধী মানুষের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

সেমিনারে বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন বলেন, সাধারণ প্রতিবন্ধিতার সঙ্গে অতিদারিদ্র্যের খুব বেশি সম্পর্ক নেই। কিন্তু অতিপ্রতিবন্ধিতার সঙ্গে অতিদারিদ্র্যের একটা নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। একই কথা শ্রমবাজারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। অতিপ্রতিবন্ধীরা শ্রমবাজারে তেমন একটা নেই। কিন্তু সাধারণ প্রতিবন্ধীদের মোটামুটি একটা অবস্থান আছে। এ নিরিখে প্রতিবন্ধীদের চিকিৎসাসেবা কিংবা অন্য যে কোনো সেবার ক্ষেত্রে তাদের প্রকৃত শ্রেণিকরণ খুব জরুরি।

প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়, প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্নিষ্ট নীতিনির্ধারক, চিকিৎসক ও নার্সদের বিশেষ প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রতিবন্ধীদের মধ্যে যারা দরিদ্র তাদের জন্য বিনামূল্যে মাস্ক, স্যানিটাইজার দেওয়া এবং ভর্তুকি মূল্যে মেডিকেল স্কিম চালু করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।