দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক হামলার বিচারে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক অবস্থান কর্মসূচিতে এই দাবি জানান জোটের নেতারা।

মহাজোটের সভাপতি বিধান বিহারী গোস্বামীর সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট দীনবন্ধু রায়, সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট প্রদীপ কুমার পাল, যুগ্ম মহাসচিব শ্যামল কান্তি নাগ, আন্তর্জাতিক সম্পাদক নরেশ হালদার, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট প্রতীভা বাগচী, যুববিষয়ক সম্পাদক কিশোর বর্মণ, যুগ্ম মহাসচিব দুলাল কর্মকার, মুন্সীগঞ্জ জেলা সভাপতি সুশান্ত চক্রবর্তী, হিন্দু স্বেচ্ছাসেবক মহাজোটের সভাপতি অ্যাডভোকেট গৌরাঙ্গ মন্ডল, নির্বাহী সভাপতি পরেশ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক তোলন চন্দ্র পাল, হিন্দু যুব মহাজোটের সভাপতি প্রদীপ শঙ্কর, নির্বাহী সভাপতি গৌতম সরকার অপু, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মৃণাল মধু, হিন্দু ছাত্র মহাজোটের সভাপতি সাজেন কৃষ্ণ বল, সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব কুণ্ডু, প্রধান সমন্বয়কারী ধ্রুব বারুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বপন মধু প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ১৩ অক্টোবর থেকে কুমিল্লা, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ, নোয়াখালীর চৌমুহনী, রংপুরের পীরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপ, মন্দির, প্রতিমা, বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়েছে। আমরা মনে করি সমস্ত ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি গোষ্ঠী ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে। এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়কে রক্ষা করতে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসন ও পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা পুনর্বহাল এবং একটি সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সকল মন্দির, বাড়িঘর পুনর্নির্মাণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান তারা।

কর্মসূচি থেকে সাত দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো- জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসন ও পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, দুর্গাপূজায় তিন দিন ও রথযাত্রায় এক দিনের ছুটি ঘোষণা করা, সংখ্যালঘু উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও কমিশন প্রতিষ্ঠা করা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য সরকারি চাকরিতে ২০ শতাংশ কোটার ব্যবস্থা করা, হিন্দু পারিবারিক আইনের কোনো ধরনের পরিবর্তন না করাসহ হিন্দু বিবাহ আইন বাতিল করা, রমনা কালীমন্দিরসহ সকল বেদখলকৃত মন্দির ও দেবোত্তর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করাসহ জাদুঘরে সংরক্ষিত দেববিগ্রহ পূজার জন্যে হিন্দুদের কাছে ফেরত দেওয়া এবং দেশে একটি বৈদিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ টোল শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্জাগরণ করা।

অবস্থান কর্মসূচি শেষে তারা একটি মশাল মিছিল বের করেন। মিছিলটি শাহবাগ মোড় থেকে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।