চট্টগ্রামে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা নিয়ে ‘বাংলাদেশে মৌলবাদী সাম্প্র্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে গণকমিশন’ আয়োজিত গণশুনানিতে ৫৬ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এছাড়া নাম-পরিচয় প্রকাশে ভীত এমন অনেকে লিখিতভাবেও ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরে অভিযোগ দিয়েছেন। 

রোববার চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গণশুনানিতে গণকমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের নেতৃত্বে অংশ নেন আদিবাসী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক ককাসের আহ্বায়ক সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, গণকমিশনের সদস্য সচিব তুরিন আফরোজ, সমন্বয়কারী কাজী মুকুল, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি দেলোয়ার মজুমদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমানসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

গণশুনানি শেষে নেতৃবৃন্দ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, 'ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী অনেকের বক্তব্য নিয়েছি আমরা। সাক্ষীদের বক্তব্যে ঘটনার প্রথমেই প্রশাসন ও পুলিশের গাফিলতি থাকার বিষয়টিসহ অনেক তথ্য উঠে এসেছে। প্রথমে ঘটনা প্রতিরোধে রাজনীতিবিদদের অনুপস্থিতিও ছিল। ঘটনার যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে তা স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।' এ সময় তিনি যারা হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছে তাদের পক্ষ থেকে ঘটনা আপস করতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন।

ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, 'আমাদের মনে হয়েছে, বাংলাদেশে অসাম্প্র্রদায়িক রাজনৈতিক চেতনা দুর্বল হয়েছে। শুধু পুলিশ ও প্রশাসন দিয়ে মৌলবাদী শক্তিকে পরাস্ত করা সম্ভব নয়। রাজনীতি দিয়ে এটিকে পরাস্ত করতে হবে।'

তুরিন আফরোজ বলেন, 'ভুক্তভোগীদের বক্তব্য শুনে আমাদের মনে হয়েছে চট্টগ্রামে সুপরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধভাবে সাম্প্র্রদায়িক আক্রমণ হয়েছে। বক্তব্যে পুলিশ প্রশাসনের শিথিলতার কথা এসেছে। এমন অভিযোগ আমরা কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও পেয়েছি। এসব ঘটনায় জয় বাংলা স্লোগানকে বিতর্কিত করার একটি অপপ্রয়াস চালানো হয়েছে।'

গণশুনানিতে চট্টগ্রাম নগরের ফিরিঙ্গিবাজার পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অমিত হোড় বলেন, 'গত ১১ অক্টোবর রাতে মন্দিরে প্রতিমা নেওয়ার সময় স্থানীয় ফলের আড়ত থেকে ফল ছুড়ে প্রতিমার হাত ভেঙে দেওয়া হয়।'

চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি আশীষ ভট্টাচার্য ও সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেন দশমীর দিন নগরের প্রধান পূজামণ্ডপ জেএম সেন হলে হামলার বিস্তারিত তুলে ধরেন। গণশুনানিতে অংশগ্রহণকারীদের বেশিরভাগই হামলার সময় পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের গাফিলতির অভিযোগ করেন।