বাসভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও যাত্রী হয়রানি বন্ধ করতে রাস্তায় পর্যাপ্ত সংখ্যক বাস নিশ্চিত করাসহ বাস ভাড়া বৃদ্ধিতে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন পবাসহ ১৯টি সংগঠন। 

শনিবার সকালে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘বাসভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও যাত্রী হয়রারি বন্ধ করতে পর্যাপ্ত বাস নিশ্চিত করা ও চক্রান্তকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই’ শীর্ষক আয়োজিত  মানববন্ধনে এই দাবি জানান সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ। 

পবা, নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম (নাসফ), পুরান ঢাকা নাগরিক উদ্যোগ, ঢাকা যুব ফাউন্ডেশন, পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চ, পরিবেশ উন্নয়ন সোসাইটি, বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনসহ ১৯টি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

পবার সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহানের সভাপতিত্বে এবং সম্পাদক এম এ ওয়াহেদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পবা চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, নাসফের সাধারণ সম্পাদক মো. তৈয়ব আলী, পুরান ঢাকা নাগরিক উদ্যোগের সভাপতি নাজিমউদ্দীন, পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চের সভাপতি আমির হাসান মাসুদ, পরিবেশ উন্নয়ন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মেনন চৌধুরী, আইনের পাঠশালার সভাপতি সুব্রত কুমার দাস, বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনের প্রচার ও গবেষণা সম্পাদক হাসিবুল হক পুনম, দেবীদাস ঘাট সমাজ কল্যাণ সংসদের সভাপতি মো. মুসা, নাসফের শাকিল রেহমান, পবার সদস্য সুমন হাওলাদার প্রমুখ।

মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ বলেন, জ্বালানি বা গ্যাসের দাম সরকার বাড়ায়, আবার এর সঙ্গে মিলিয়ে বাস ও যানবাহনের ভাড়াও সরকারই বাড়ায় বা ঠিক করে দেয়। কিন্তু একটি ঠিক থাকে, অন্যটি থাকে না।  সরকার নির্ধারিত দামেই গ্যাস বা জ্বালানি বিক্রি হয়, কিন্তু যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায়ের সময় কিছুই নির্ধারিত থাকে না। পরিবহন শ্রমিক নামধারী একটি চক্র পুরো পরিবহন সেক্টরকে জিম্মি করে রেখেছে। সংস্থার নিজস্ব লোকবলের মাধ্যমে বিআরটিসি বাস পরিচালনায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা থাকলেও সিন্ডিকেটের হাতে এর নিয়ন্ত্রণ। এমনকি এই সিন্ডিকেট হাইকোর্টের রুলকেও পরোয়া করে না। পরিবহন যারা চালান, দাম বাড়ানোর বেলায় সরকারের হয়ে তারাই আবার দরকষাকষি করেন। অন্তত টেবিলের উভয় পক্ষে বসেন একই স্বার্থের লোক। ফলে ভাড়া আদায়টা তাদের জোর জুলুমের বিষয়। যেকোনো রুটে নির্দিষ্ট দূরত্বগুলোতে একটি ভাড়া একবার কায়েম করে ফেললেই হলো। এরপর থেকে সেটাই নিয়ম, সেটাই নির্ধারিত ভাড়া। এর সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার কোনো সম্পর্ক থাকে না।

তারা বলেন, পরিবহন সিন্ডিকেটের জিম্মায় চলে যাচ্ছে কোম্পানিগুলোর বাস। যে কারণে যাত্রীদের সঠিক সেবা তারা প্রদান করতে পারছে না। কোম্পানিগুলোর যেখানে ৫০টি বাস চালানোর কথা সেখানে তারা চালাচ্ছে মাত্র ১০টি। কম বাস চালানোর কারণে যাত্রীদের গাদাগাদি করে যাতায়াত করতে হচ্ছে। মানের দিক থেকেও বাসগুলি অনেক নিম্নমানের ও ঝুঁকিপূর্ণ। যানজটেও নাকাল সাধারণ মানুষ, যারা নিয়মিত বাসে চলাচল করেন তাদের হয়রানি ও দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে বাসের সংখ্যা কমিয়ে সংকট আরও বৃদ্ধি করে। পিক আওয়ারে বা বৃষ্টির সময় যাত্রী দুর্ভোগ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। এ সময় কোম্পানিগুলো সুযোগ কাজে লাগিয়ে নানা অজুহাতে ভাড়া বাড়িয়ে যাত্রী হয়রানি বৃদ্ধি করে। বক্তারা বাসভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও যাত্রী হয়রানি বন্ধ করতে রাস্তায় পর্যাপ্ত সংখ্যক বাস নিশ্চিত করাসহ বাস ভাড়া বৃদ্ধিতে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মানববন্ধনে সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ছয় দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো- সব রুটে পর্যাপ্ত সংখ্যক মানসম্মত বাস নিশ্চিত করা, ব্যাংকসহ নানা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিআরটিসির বাস লিজ দেওয়ার প্রথা বাতিল করে নিজস্ব উন্নত ব্যবস্থাপনায় গণপরিবহন হিসেবে বাসগুলো চালানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা, বাসগুলো যেন সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করতে পারে তা নিশ্চিত করাসহ যেকোনো অজুহাতে অতিরিক্ত বাস ভাড়া বৃদ্ধি প্রতিহত করা, পরিবহন খাতে নৈরাজ্য ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা, শিক্ষার্থীদের অর্ধেক ভাড়ায় চলাচল নিশ্চিত করা এবং সব বাসে দৃশ্যমান বিভিন্ন স্থানে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা রাখার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি টিকেট সিস্টেম চালু রাখা।