কেবল সংযোগদাতা প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত টাকায় যেন সেট টপ বক্স বিক্রি না করে সেদিকে নজর রাখবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।

বিশ্ব টেলিভিশন দিবস উপলক্ষে রোববার রাজধানীর বনানীতে একটি অভিজাত হোটেলে ‘অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স-এটকো’ আয়োজিত ‘বাংলাদেশে টেলিভিশন চ্যানেলের বিকাশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা জানান তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ। 

তিনি বলেন,‘অযাচিতভাবে বেশি টাকায় সেট টপ বক্স বিক্রি করা না হয় সেটা আমরা মনিটর করব।’  

সেট টপ বক্সটি চীনে উৎপাদিত হয়। কেবল অপারেটররা চীন থেকে আমদানি করে গ্রাহকদের বাসায় স্থাপন করে দেয়। তবে চাইলে গ্রাহকরা বাজার থেকে কিনেও নিতে পারে।

সেট টপ বক্সের দাম বাজারভেদে ১৬-১৮ শত টাকা থেকে ৪ হাজারের মধ্যে পড়ে। দামভেদে টিভির ছবি ও শব্দের মানের ভিন্নতা থাকে। সেট টপ বক্সের জন্য এককালীন কিংবা কিস্তিতে আলাদাভাবে অর্থ পরিশোধ করতে হবে। মাসিক ফি আলাদাভাবে দিতে হবে, সেটি নির্ভর করতে গ্রাহকরা কোন প্যাকেজ ব্যবহার করছেন সেটির ওপর।

গত ৩১ অক্টোবর হাছান মাহমুদ জানিয়েছিলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এবং গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ সব আদি জেলা শহরে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে টিভি কেবল নেটওয়ার্ক ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপায়ন হবে। এই সময়সীমার মধ্যে এই শহরগুলোতে গ্রাহকদের সেট-টপ বক্স না থাকলে টেলিভিশন দেখার ক্ষেত্রে ব্যত্যয় হবে। 

এই অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী ক্লিনফিডের বিষয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশে সম্প্রচারের জন্য বিদেশি চ্যানেলকেই আইন অনুযায়ী ক্লিনফিড পাঠাতে হবে। কেবল নেটওয়ার্কে টিভির ক্রম ঠিক ছিল না, এখন হয়েছে। কেবল অপারেটররা নিজেরাই বিজ্ঞাপন দেখাতো, সেগুলো বন্ধ হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অন্যান্য দেশে কিভাবে টেলিভিশনগুলোর রেটিং করা হয় সেগুলো পরীক্ষা করে আমরা একটা সিদ্ধান্ত এসেছি এবং খুব সহসা আমরা এতে শৃঙ্খলা আনব। বিভিন্ন টেলিফোন কোম্পানি ইউটিউব চ্যানেল চালাচ্ছে। তাদেরকে সেই লাইসেন্স দেওয়া হয়নি। লাইসেন্সের শর্তভঙ্গ করে কেউ কিছু করবে সেটি হতে পারে না।’

অনুষ্ঠানে দেশীয় বিজ্ঞাপনে বিদেশি শিল্পীদের অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা হয়।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিদেশি শিল্পীদের দিয়ে বিজ্ঞাপন বানালে শিল্পীপ্রতি দুই লাখ টাকা সরকারের কোষাগারে জমা দিতে হবে। এতে দেশি শিল্পীদের উপকার হবে।’ 

অ্যাটকোর সভাপতি অঞ্জন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সহ সভাপতি ডিবিসি ২৪ চ্যানেলের চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরীর সঞ্চালনায় বৈঠকে অংশ নেন প্রধান তথ্য কমিশনার মরতুজা আহমদ, প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নিজামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান, মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম, বাসস চেয়ারম্যান অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক সোহরাব হোসেন, বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ, এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান, আরটিভির ভাইস চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট মো. জসিম উদ্দিন, দেশ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ হাসান, একুশে টিভির প্রধান নির্বাহী পীযুষ বন্দোপাধ্যায় ও মাছরাঙা টিভির বার্তাপ্রধান রেজওয়ানুল হক রাজা। 

অ্যাটকোর এই অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে আগে একটি টেলিভিশন ছিল। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে বেসরকারি টেলিভিশনের যাত্রা শুরু করেছিলেন। আজকে একে একে ৩৪টি টেলিভিশন সম্প্রচারে আছে, আরও কয়েকটি প্রস্তুতি নিচ্ছে, ৪৫টির লাইসেন্স দেওয়া আছে। সাংবাদিক, কলাকুশলী ছাড়াও টেলিভিশন শিল্পে সবমিলিয়ে প্রায় লাখখানেক মানুষ যুক্ত। আরও অনেকেই কন্টেন্ট ও বিজ্ঞাপন বানায় ও বিক্রি করে। প্রায় পাঁচ কোটি বাড়িতে টেলিভিশন আছে।’

সরকারের অনুমোদনপ্রাপ্ত টিভি চ্যানেলগুলোর মালিকপক্ষ ও সম্পাদকদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যাদেরকে উপযুক্ত মনে করেছেন তাদেরকে দিয়েছেন, যাতে দেশ-সমাজ ও সাংবাদিকরা উপকৃত হবে। একইসাথে দেশ ও সমাজ গঠনে অবদান রাখতে সক্ষম হবে। তাই এ দিবসে আমার  বিনীত অনুরোধ, আমরা যেন দেশাত্মবোধ, মমত্ববোধ, মূলবোধ এবং মেধায় সমৃদ্ধ একটি নতুন প্রজন্ম গঠনে এই টেলিভিশন শিল্পকে কাজে লাগাতে পারি, সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করব।'