একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বগুড়ার সাবেক এমপি ও বিএনপি নেতা আব্দুল মোমিন তালুকদার ওরফে খোকার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। 

বুধবার বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। 

রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, মোমিন তালুকদারের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।  তাকে তিন মামলাতেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো। 

রায় ঘোষণার সময় মোমিন তালুকদার পলাতক ছিলেন। 

আবদুল মোমিন তালুকদারের বিরুদ্ধে একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ১৯ জনকে হত্যা ও গণহত্যা এবং ১৯টি বাড়ি লুট করে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হয়। 

আদমদীঘি থানার রাজাকার কমান্ডার আবদুল মোমিন তালুকদার স্বাধীনতার পর ১৯৭৮ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। পরে আদমদীঘি উপজেলা বিএনপির সভাপতি হন। বিএনপির নেতৃত্বে  চার দলীয় জোট সরকারের আমলে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পান তিনি। ২০০১ ও ২০০৮ সালে দুইবার বগুড়া-৩ (দুপচাঁচিয়া-আদমদীঘি) আসন থেকে বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মোমিন তালুকদার। বর্তমানে তিনি বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। 

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল মোমিন তালুকদারের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে হত্যা, লুট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে ২০১১ সালে আদালতে মামলা করেন আদমদীঘির কায়েতপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ সুবিদ আলী। আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে রেকর্ডভুক্ত করতে আদমদীঘি থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। পরে ওই মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। একাত্তরে মোমিনের বাবা আব্দুল মজিদ তালুকদার ছিলেন স্থানীয় শান্তি কমিটির নেতা। বাবা-ছেলে দুজনেই সেসময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।