মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনির দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা রিমান্ড মঞ্জুর করায় সংশ্লিষ্ট ঢাকার দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের বিষয়ে রায় পিছিয়েছে। আগামী ৫ জানুয়ারি রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মোবিন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার রায়ে এ দিন পুনঃনির্ধারন করেন। গত ৩১ অক্টোবর এ বিষয়ে রায়ের জন্য ২৫ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছিল। 

এর আগে ঢাকার মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাস ও আতিকুল ইসলাম পরীমনিকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা রিমাণ্ডের আদেশ দেওয়ার বিষয়ে হাইকোর্ট নিঃশর্ত ক্ষমা চান। ভবিষ্যতে রিমান্ড মঞ্জুরের ক্ষেত্রে তারা সতর্ক থাকবেন বলেও লিখিত বক্তব্যে আদালতে অঙ্গীকার করেন। পরে এ বিষয়ে রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হয়।

দুই বিচারকের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল আলীম মিয়া জুয়েল। পরীমনির পক্ষে ছিলেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না এবং পরীমনির আইনজীবী মজিবুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমান।

গত ৪ আগস্ট পরীমণিকে আটক করে র‌্যাব। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে র‌্যাবের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। এরপর আদালতের আদেশ নিয়ে পরীমণিকে প্রথম দফায় চার দিন ও দ্বিতীয় দফায় দুদিন এবং তৃতীয় দফায় একদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি। 

পরে ২৯ আগস্ট উচ্চ আদালতের রায় না মেনে পরীমণিকে বারবার নেওয়া রিমান্ড চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে একই দিন হাইকোর্ট পরীমনির জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন। এর দুই দিন পর হাইকোর্টের আদেশের আলোকে পরীমণিকে জামিন দেন বিচারিক আদালত। এরপর ২ সেপ্টেম্বর পরীমণিকে দফায় দফায় রিমান্ড মঞ্জুরের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিচারকদের কাছে ব্যাখ্যা চান হাইকোর্ট। একই সঙ্গে পরিমণির মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে মামলার নথিপত্রসহ তলব করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৪ সেপ্টেম্বর পরীমণিকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা রিমান্ডে পাঠানো নিম্ন আদালতের দুই বিচারকের দাখিল করা ব্যাখ্যায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাইকোর্ট। পরে তাদের ফের লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৩১ অক্টোবর নিঃশর্ত ক্ষমার আবেদনসহ দুই বিচারকের লিখিত ব্যাখ্যা হাইকোর্টে দাখিল করেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।