প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের পর তাদের গেজেটভুক্তির ক্ষেত্রে জেলা ও উপজেলায় বিদ্যমান গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার ১০ শতাংশের বেশি তালিকাভুক্ত করা যাবে না- এমন বিধান রেখে ২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) জারি করা পরিপত্র বাতিল করেছেন হাইকোর্ট। 

বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মু. মাহবুব উল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ রায় দেন। এর ফলে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের পর তাদের গেজেটভুক্তির ক্ষেত্রে আর কোনো নির্ধারিত সীমা রইল না।

আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার তৌফিক ইনাম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেটভুক্তি নিয়ে জামুকার পরিপত্রটি বাতিল করে রায়ে বলা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা শুধু বেআইনিই নয়; অসাংবিধানিকও। কারণ, যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ১০ শতাংশের কম বা বেশিও হতে পারে। একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকেও তালিকার বাইরে রাখা যেমন বেআইনি, একইভাবে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নয় এমন একজনকেও তালিকাভুক্ত করা বেআইনি। এ ধরনের পরিপত্র জারি করার মাধ্যমে জামুকা যাচাই-বাছাই কমিটিকে একটি ফ্রি লাইসেন্স দিয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৭ সালে উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি 'ক' তালিকা প্রস্তুত করা হয়। তখন প্রতি জেলা ও উপজেলায় বিদ্যমান গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ব্যক্তিকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য সুপারিশ করে যাচাই-বাছাই কমিটি। এ নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন দেখা দিলে জামুকা পরিপত্র জারি করে। এই পরিপত্রের কারণে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সুপারিশ পেলেও হাজারো ব্যক্তি গেজেটভুক্ত হওয়ার তালিকা থেকে বাদ পড়েন। 

এ অবস্থায় পরিপত্র চ্যালেঞ্জ করে সাভার সদর, সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলাসহ বেশ কয়েকটি উপজেলার 'ক' তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধারা গত বছর হাইকোর্টে তিনটি রিট আবেদন করেন।