জালিয়াতি করে নিয়োগ বাণিজ্য ও উন্নয়ন খাতের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র খান হাবিবুর রহমানসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

বুধবার দুদকের খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তরুণ কান্তি ঘোষ বাদী হয়ে কমিশনের এই কার্যালয়ে মামলা দুটি করেন। তবে কমিশন থেকে বৃহস্পতিবার মামলা দুটির তথ্য জানানো হয়।

এই মেয়রের বিরুদ্ধে দুই মামলায় সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম, ভবন নির্মাণ বরাদ্দ থেকে অর্থ আত্মসাৎ ও নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে দুই কোটি ২৬ লাখ ৮৮ হাজার ৮৫৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মেয়রের বিরুদ্ধে করা একটি মামলায় বলা হয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ পৌর-২ শাখার অধীনে ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরের পৌরসভা উন্নয়ন সহায়তা থেকে ও জেলার আবাহনী ক্লাবের কমপ্লেপ ভবন (প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ) নির্মাণ ও ডায়াবেটিক হাসপাতাল কমপ্লেপ ভবন নির্মাণকাজের বরাদ্দ অর্থ তিনি আত্মসাৎ করেছেন। ওইসব উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ থেকে এক কোটি টাকা উত্তোলন করে তিনি আত্মসাৎ করেছেন। এ অর্থ আত্মসাতের যাবতীয় দালিলিক প্রমাণ রয়েছে দুদকের হাতে। এ মামলার অপর আসামি হলেন বাগেরহাট পৌরসভার সাবেক সচিব মো. রেজাউল করিম।

নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে দ্বিতীয় মামলাটি করা হয়েছে মেয়রসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে। এটির এজাহারে বলা হয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পৌর কর্মচারীর চাকরি বিধিমালা-১৯৯২-এর নিয়ম ও পদ্ধতি অনুসরণ না করে এবং কোনো নিয়োগ পরীক্ষা না নিয়েই অবৈধভাবে ১৭ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মেয়র বাদে নিয়োগ দেওয়া ১৭ জনের সবাই এই মামলার আসামি। এই মামলায় নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে এক কোটি ২৬ লাখ ৮৮ হাজার ৮৫৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এই মামলার মোট ১৮ আসামির মধ্যে রয়েছেন- মেয়র খান হাবিবুর রহমান, সাবেক পাম্পচালক দিপু দাস, অপূর্ব কুমার পাল, নিতাই চন্দ্র সাহা, সাবেক সহকারী পাম্পচালক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, সাবেক বাজার শাখায় আদায়কারি মো. আসাদুজ্জামান, সাবেক সহকারী লাইসেন্স পরিদর্শক জ্যোতি দেবনাথ, সাবেক সহকারী কর আদায়কারী মো. মারুফ বিল্লাহ, বালী শফিকুল ইসলাম, মো. সৌদি করিম, সাব্বির মাহমুদ, পারভীন আক্তার, পানি শাখার সাবেক বিল ক্লার্ক শারমিন আক্তার বনানী, সাবেক গাড়িচালক মো. হাচান মাঝি, সাবেক সুইপার সুপারভাইজার হাসনা আক্তার, মো. জিলানী, সাবেক এমএলএসএস তানিয়া ও সাবেক হেলথ ভিজিটর সেতু পাল পূজা।

দুটি মামলার সব আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের ২নং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে- যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।