বিভিন্ন খাতে সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে ক্ষমতাসীন ১৪ দলের শরিক দলের সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন বলেছেন, নীতিনির্ধারণে অংশ না নিয়েও সরকারের দায় বহন করতে হচ্ছে।  

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় দিনের মতো এই বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এদিনের বিশেষ আলোচনায় রাশেদ খান মেনন ও রুমিন ফারহানা ছাড়াও আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্রসহ বিভিন্ন দল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও আলোচনায় অংশ নিয়েছেন।

বিশেষ আলোচনায় অংশ নিয়ে রাশেদ খান মেনন বলেন, '১৫ দল, তিন জোটের অঙ্গীকার ও ১৪ দল গঠনের মধ্য দিয়ে আমরা বর্তমান পর্যায়ে এসেছি। নেতৃত্বে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর ভিত্তি ছিল অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য। আমাদের জোট আছে। ১৪ দলে আছি। তবে কেবল দিবস পালনে, নীতিনির্ধারণের কোনো অংশে আমরা নেই। কিন্তু সরকারের দায় আমাদেরও বহন করতে হয়। আওয়ামী লীগের কাছে ১৪ দলের অথবা অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক ঐক্যের প্রাসঙ্গিকতা আছে কিনা জানি না।'

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামনে ধর্মীয় মৌলবাদ, দুর্নীতি-বৈষম্য-সাম্প্রদায়িকতা এবং সম্পদ আর ক্ষমতার কেন্দ্রীভূত করা আর কর্তৃত্বের যে বিপদ বিদ্যমান- তা থেকে মুক্ত করতে আজ অসম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীল শক্তির ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। সুবর্ণজয়ন্তীতে উন্নয়ন বনাম গণতন্ত্র নয়, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে হবে। সাম্প্রদায়িকতাকে রুখতে হবে।

মেনন বলেন, 'আমাদের দুর্ভাগ্য, রাজনৈতিক প্রয়োজনে ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার করা হয়। তারা রাষ্ট্র, সংবিধান, জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। তাদের মতবাদের অনুপ্রেরণা এমনভাবে ঘটেছে যে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক মেয়র ধর্মনিরপেক্ষতাকে ধর্মহীনতা বলতে দ্বিধা করেন না। সরকার দলের মেয়র বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণ করতে অস্বীকার করেন। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সাম্প্রায়িক দাঙ্গায় আমরা তৃণমূলের কর্মীদের অংশগ্রহণকে অস্বীকার করতে পারব না। এটা স্বীকার না করলে সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে আরও উৎসাহিত করবে। ধর্মবাদী রাজনীতির সঙ্গে আপস বাংলাদেশে জামায়াতের পুনরুত্থান ঘটাবে কিনা, বলা যাবে না।'