দেশে মোট জনসংখ্যার আড়াই শতাংশ নানা ধরনের কিডনি রোগে ভুগছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক নেফ্রলজিস্ট সম্মেলনে উপস্থিত কিডনি বিশেষজ্ঞরা। তারা এও জানান, নব্বই দশকে জনসংখ্যার এক শতাংশ কিডনি জটিলতায় ভুগত।

তারা আরও জানান, দেশের কিডনি রোগীদের এক শতাংশেরও কম কিডনি প্রতিস্থাপনের সুবিধা রয়েছে। তবে কিডনি রোগটি প্রাথমিক অবস্থায় নিরূপণ করতে পারলে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে যেতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে প্রয়োজনের তুলনায় নেফ্রলজিস্ট নেই।

শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের বীর উত্তম মেজর হায়দার অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নেফ্রলজিস্ট সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র বাংলাদেশ, বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশন এবং আইএসএন।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কিডনি হাসপাতাল ও কিডনি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও চিফ অব কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডা. হারুন উর রশীদ।

সম্মেলনে কিডনি বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নেফ্রলজিস্ট নেই। আবার যারা আছেন, তাদের বেশির ভাগই রাজধানীতে। ফলে রাজধানীর বাইরের রোগীর চিকিৎসা প্রয়োজন হলে তারা প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা পান না।

বক্তারা বলেন, কিডনি রোগ ঠেকাতে প্রাথমিক লেভেল থেকেই প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা শুরু করতে হবে। ধারণা করা হয়, বাংলাদেশে ১৫ লাখ শিশু নেফ্রলজির রোগী রয়েছে, কিন্তু তাদের চিকিৎসার জন্যও পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই। আবার কিডনি অকেজো হয়ে যাওয়ার পর ডায়ালাইসিস করে বেঁচে থাকতে কিডনি রোগীদের ১২ থেকে ২২ শতাংশ সম্পদ বিক্রি করে দিতে হচ্ছে।

এতে বক্তব্য রাখেন, শিশু নেফ্রোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হানিফ, বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশন অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েশন ফিজিশিয়ান অব বাংলাদেশ প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রাফিকুল আলম, সাংগঠনিক কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) মামুন মোস্তাফী।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন সান্ট্রিফিক কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান ও সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার।