রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীরা কিছুদিন ধরেই হাতে লাঠি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি রাতে নিজেদের ক্যাম্প পাহারা দিয়ে আসছিলেন। স্বেচ্ছাসেবীদের দাবি ছিল, তাদের যেন বাঁশি সরবরাহ করা হয়। কোনো দুর্বৃত্ত বা সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীর আনাগোনা টের পেলেই বাঁশি বাজিয়ে তারা সতর্ক করতে পারবেন। কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প নিয়ে ২৩ নভেম্বর সমকালে 'হাতে লাঠি আছে, মুখে বাঁশি চাই'- এই শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পরই আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীদের বাঁশি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রথমবারের মতো গত শুক্রবার মধ্যরাতে উখিয়ার ক্যাম্প-১৮-এর এইচ ব্লকে এক হাজার রোহিঙ্গার মধ্যে বাঁশি বিতরণ করা হয়। পর্যায়ক্রমে আরও কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে বাঁশি দেওয়া হবে। বাঁশি পাওয়ার পর রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীরাও উচ্ছ্বসিত। স্বেচ্ছাসেবী আবু তাহের তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, বাঁশি পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। নিজেদের আঙিনা নিজেরা পাহারা দিচ্ছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আমরা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।

৮ এপিবিএনের অধিনায়ক মোহাম্মদ সিহাব কায়সার খান বলেন, রোহিঙ্গারা আমাদের প্রবর্তিত স্বেচ্ছা পাহারা ব্যবস্থার প্রতি সম্মান রেখে প্রতিদিন রাতে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে। এতে পুলিশ ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে। দুস্কৃতকারীরা একের পর এক গ্রেপ্তার হচ্ছে এবং অনেকে গা-ঢাকা দিয়েছে। এই পাহারা ব্যবস্থার মাধ্যমে তারা আরও দায়িত্বশীল হয়ে উঠছেন। বিভিন্ন মহলেও এ ব্যবস্থা প্রশংসিত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্বেচ্ছা পাহারাদাররা যাতে আরও উৎসাহিত হয়, সে জন্য তাদের প্রত্যেককে বাঁশি প্রদান করা হলো।

গত ২২ অক্টোবর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সিক্স মার্ডারের ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম ক্যাম্পে ক্যাম্পে দুস্কৃতদের অত্যাচার থেকে সাধারণ রোহিঙ্গাদের রক্ষায় স্বেচ্ছা পাহারা ব্যবস্থা চালু করেন। পরবর্তী সময়ে এ পাহারা ব্যবস্থা ৮ এপিবিএন-এর ১১টি ক্যাম্পে একযোগে চালু হয়েছে। এডিসি মো. রবিউল ইসলাম বলেন, স্বেচ্ছা পাহারা এরই মধ্যে দেশীয়-আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসা অর্জন করেছে। এই মডেল শিগগিরই আন্তর্জাতিক রূপও নিতে পারে।