ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ. কে. আজাদ বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি শোষণহীন সমাজ চেয়েছিলেন।  যেখানে জনগণ খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ পাবে। শিক্ষা শেষে প্রত্যেকে একটি চাকরি পাবে- এমনই একটা সমাজ গড়তে চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে শনিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হল অডিটোরিয়ামে 'ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন'র উদ্যোগে আয়োজিত 'আমার বঙ্গবন্ধু' শীর্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃহল বক্তৃতা প্রতিযোগিতার অষ্টম পর্বের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শাহ্ মো. মাসুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অ্যাসোসিয়েশনের মুজিব শতবর্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোল্লা মো. আবু কাওছার, সদস্য সচিব সুভাষ সিংহ রায় এবং চ্যানেল আইয়ের সিনিয়র নিউজ এডিটর মীর মাসরুর জামান রনি। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অ্যাসোসিয়েশনের যোগাযোগ ও প্রচার সম্পাদক ও বক্তৃতা প্রতিযোগিতার সমন্বয়ক কাজী মোয়াজ্জেম হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ. কে. আজাদ বিশ্ববিদ্যালয় ও হল জীবনের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, ‘এই হলে এসে আবার যেন আমি ৩৭ বছর আগে ফিরে গেছি। হল প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে এই হলের আবাসিক সঙ্কট কীভাবে দূর করা যায় সেই বিষয়ে কাজ করার চেষ্টা করবো। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হলে কী কী সমস্যা রয়েছে- সেটি খুঁজে বের করে আমাকে জানালে আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং সরকারের সহায়তায় সেই সমস্যা দূর করার চেষ্টা করবো।’

তিনি বলেন, ‘তিন মিনিট কিংবা পাঁচ মিনিটের মধ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বক্তৃতা দেওয়া সম্ভব না। তিনি ছিলেন অনেক বড় মাপের মানুষ। তিনি তার জীবনের ৮৪ শতাংশ সময় মানুষের জন্য ব্যয় করেছেন। মানুষের জন্য ও দেশের জন্য অনেক বাঙালিই আত্মত্যাগ করেছেন। তবে বঙ্গবন্ধুর মতো কেউ এতটা সময় পরিবার থেকে দূরে থেকেছেন বলে আমার মনে হয় না।’

এ. কে. আজাদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জীবনকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তিনি সারাজীবন মানুষের মুক্তি চেয়েছেন। সেই স্বপ্ন তিনি বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি। তবে তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।’

বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় ১৭ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে তাদের ভাবনা, তাদের ধারণ করা চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন কীর্তি তুলে ধরেন। প্রতিযোগিতার এই পর্বে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন মৎস্য বিজ্ঞান বিভাগের মমতাজ জিন্নাত সাগর ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আনোয়ার ইব্রাহিম বিপ্লব। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

গত ১৭ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এই বক্তৃতা প্রতিযোগিতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হলে এই বক্তৃতা প্রতিযোগিতা ধারাবাহিকভাবে চলছে। প্রত্যেক হল থেকে প্রথম স্থান অধিকার করা শিক্ষার্থী আগামী ১১ ডিসেম্বর প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।