গণফোরামের একাংশের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩ ডিসেম্বর। শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, আমরা ড. কামাল হোসেনসহ সব নেতাকর্মীকে কাউন্সিলে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। গণফোরাম গণমানুষের দল। দলীয় নেতাকর্মীদের সব দ্বন্দ্ব-বিভেধ ভুলে কাউন্সিল সফল করার জন্য আহ্বান জানান তারা।

একইসঙ্গে সংবাদ সম্মেলন থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানোর দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গণফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেন, আমরা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ ও কার্যকর গণতন্ত্র চাই। সেই লক্ষ্যে গণফোরাম তার সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই সরকার দুর্নীতিবাজ ও কালো-বাজারিদের সঙ্গে আতাত করে দেশ পরিচালনা করছে। আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই। নতুন প্রজন্মকে সংগঠিত করে দুর্নীতিবাজ, অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী এ সরকারকে উচ্ছেদ করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা ড. কামাল হোসেনসহ সব নেতাকর্মীকে কাউন্সিলে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। গণফোরাম দেশের সব পর্যায়ে, দলের অভ্যন্তরে সাংগঠনিক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক নিয়ম নীতি প্রয়োগ করে। আগামী কাউন্সিলে গণফোরামের যেসব নেতাকর্মী সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবেন এবং পরবর্তী কমিটির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন, শুধু তারাই গণফোরামের প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা রাখেন।

এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, সরকার পরিচালনায় রাষ্ট্রীয় চার নীতির কার্যকারিতা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে আপস করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করা হচ্ছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের কোনো বিচার হচ্ছে না। যে কারণে সমাজে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন, অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, অ্যডভোকেট মোহসীন রশিদ, মহিউদ্দিন আব্দুল কাদের, মেজর (অব.) আসাদুজ্জামান বীর প্রতীক, আইয়ুব খান ফারুক, আতাউর রহমান, অ্যডভোকেট হেলাল উদ্দিন, লতিফুল বারী হামিম, বিশ্বজীৎ গাঙ্গুলী প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনের পর ইকবাল জামাল জুয়েলের সভাপতিত্বে এবং রওশন ইয়াজদানীর সঞ্চালনায় ঢাকা জেলা কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে ইকবাল জামাল জুয়েলকে আহ্বায়ক ও হানিফ মিয়াকে সদস্য সচিব করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট ঢাকা জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

এছাড়া জান্নাতুল মাওয়াকে আহ্বায়ক এবং হাসিনা আক্তার সুমাকে সদস্য সচিব করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট ঢাকা মহানগর মহিলা গণফোরামের কমিটি গঠিত হয়।